
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরা জেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের অফিস সহায়ক ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনসহ বিভিন্ন অভিযোগ তুলে যে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল, সেটি নিয়ে দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পত্রিকার পক্ষ থেকে পুনরায় অনুসন্ধান ও তথ্য যাচাই করা হয়েছে।
প্রকাশিত প্রতিবেদনের পর বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনা করে দৈনিক সোনার বাংলাদেশের অনুসন্ধানী টিম দুই দফায় সরেজমিনে ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রের মাধ্যমে তথ্য যাচাই-বাছাই করে। অনুসন্ধানে ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প, টেন্ডার প্রক্রিয়া কিংবা বিল পাসের ক্ষেত্রে আর্থিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য ও যাচাইযোগ্য কোনো তথ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এ কারণে পূর্বে প্রকাশিত প্রতিবেদনে যেসব গুরুতর অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছিল, সেগুলোর সত্যতা নিয়ে বর্তমানে যথেষ্ট প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। দৈনিক সোনার বাংলাদেশের নীতিগত অবস্থান হলো—কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ প্রকাশের আগে এবং পরবর্তী সময়ে সেই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা সাংবাদিকতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
অনুসন্ধানে আরও জানা গেছে, কিছু ব্যক্তি নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে সাংবাদিকদের কাছে অসম্পূর্ণ, বিভ্রান্তিকর অথবা যাচাই না-করা তথ্য সরবরাহ করে থাকতে পারেন—এমন বিষয়ও অনুসন্ধানের আওতায় এসেছে। তবে কারা কী উদ্দেশ্যে এসব তথ্য দিয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া কারও নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
দৈনিক সোনার বাংলাদেশ মনে করে, সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করে কোনো ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় করা, ব্যক্তিগত বিরোধ বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়কে সাংবাদিকতার আড়ালে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের কাছেও প্রত্যাশা থাকে—কোনো অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য নেওয়া, নথিপত্র যাচাই করা এবং একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে তথ্য নিশ্চিত করেই সংবাদ প্রকাশ করা হবে।
দুই দফা অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে
দৈনিক সোনার বাংলাদেশের অনুসন্ধানে এখন পর্যন্ত—
ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের অভিযোগের নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি;
সরকারি প্রকল্প বা টেন্ডার থেকে তিনি অবৈধভাবে অর্থ নিয়েছেন—এমন যাচাইযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি;
বিল পাস করাতে অর্থ আদায়ের অভিযোগের পক্ষেও নির্ভরযোগ্য নথি বা প্রত্যক্ষ প্রমাণ পাওয়া যায়নি;
তার সম্পদের উৎস সম্পর্কে যেসব গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছিল, সেগুলোর সমর্থনে যাচাইযোগ্য দলিল উপস্থাপন করা সম্ভব হয়নি।
তবে ভবিষ্যতে নতুন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্য, নথি বা প্রমাণ পাওয়া গেলে দৈনিক সোনার বাংলাদেশ তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করে প্রকাশ করবে।
সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান
কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে না দিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ, নথি ও প্রমাণসহ উপস্থাপন করা উচিত। একইভাবে সাংবাদিকদের কাছেও যাচাইযোগ্য তথ্য সরবরাহ করা প্রয়োজন।
দৈনিক সোনার বাংলাদেশ স্পষ্টভাবে জানাতে চায়, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ব্যক্তিগত কিংবা ব্যবসায়িক স্বার্থ হাসিলের হাতিয়ার হিসেবে সংবাদমাধ্যমকে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে ভুল তথ্যের ভিত্তিতে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তির সম্মানহানি হোক—এটিও আমাদের কাম্য নয়।
প্রকাশিত সংবাদের কারণে ইমরান হোসেনের সামাজিক বা পেশাগতভাবে কোনো ধরনের ক্ষতি হয়ে থাকলে, এই ব্যাখ্যার মাধ্যমে দৈনিক সোনার বাংলাদেশ বিষয়টি পরিষ্কার করতে চায়। যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা দৈনিক সোনার বাংলাদেশের নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।দৈনিক সোনার বাংলাদেশ ভবিষ্যতেও জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা অব্যাহত রাখবে। তবে সেই অনুসন্ধানে প্রমাণ, নথি, সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য এবং তথ্যের বহুমাত্রিক যাচাইকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
দৈনিক সোনার বাংলাদেশ পরিবারের পক্ষ থেকে—
সত্যের সন্ধানে