
রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক আরোপের একটি প্রস্তাব মার্কিন কংগ্রেসে চূড়ান্ত অনুমোদনের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছে। ‘লিন্ডসে ও. গ্রাহাম স্যাংকশনিং রাশিয়া অ্যান্ড ইরান অ্যাক্ট অব ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি মঙ্গলবার মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ২১৪-২১১ ভোটে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগত ধাপ পার করে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের পাশাপাশি দুজন ডেমোক্র্যাট সদস্যের সমর্থন পাওয়ায় বিলটি এগিয়ে যায়। এর আগে মার্কিন সিনেটে বিলটি ৮৬-১১ ভোটের বিপুল ব্যবধানে পাস হয়েছিল এবং প্রতিনিধি পরিষদে আজ বুধবার এর চূড়ান্ত ভোট হওয়ার কথা রয়েছে।
প্রস্তাবিত এই আইনে রাশিয়ার শীর্ষ নেতৃত্ব এবং জ্বালানি খাতের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের পাশাপাশি নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে তেল পরিবহনে সহায়তাকারী ‘ছায়া বহর’ বা শ্যাডো ফ্লিটের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব দেশ মস্কোর কাছ থেকে অপরিশোধিত তেল ও জ্বালানি পণ্য আমদানি করছে, সেসব দেশের পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্টকে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত শাস্তিমূলক শুল্ক আরোপের বিশেষ ক্ষমতা দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের তথ্যমতে, প্রতিনিধি পরিষদের নথিতে যুক্ত সংশোধনীতে ভারত, চীন, তুরস্ক, আজারবাইজান, হাঙ্গেরি, স্লোভাকিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, কাজাখস্তান ও কিরগিজস্তানের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করা হচ্ছে যে, রাশিয়ার সঙ্গে অপরিশোধিত তেলের রমরমা বাণিজ্য মস্কোকে ইউক্রেন যুদ্ধে বিপুল অর্থ জোগাতে সরাসরি সহায়তা করছে। তবে এই বিলের কার্যকারিতা নিয়ে আপত্তি তুলেছেন মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট সদস্য গ্রেগরি মিকস। তাঁর মতে, কোনো কার্যকর নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ছাড়া প্রেসিডেন্টের হাতে শুল্ক আরোপের এমন অবারিত ক্ষমতা দেওয়া হলে তা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও কূটনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।এদিকে ইউক্রেন অ্যাকশন সামিটের আওতায় কিয়েভকে অব্যাহত সমর্থনের পক্ষে ওয়াশিংটনে মার্কিন আইনপ্রণেতাদের ওপর জোরালো তদবির ও চাপ অব্যাহত রেখেছে ইউক্রেনপন্থি বিভিন্ন সংগঠন। বুধবার প্রতিনিধি পরিষদে চূড়ান্তভাবে পাস হলে বিলটি কার্যকর করার জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরের জন্য পাঠানো হবে। উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবার থেকেই মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদের নির্ধারিত ছুটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।