
মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন, নিজস্ব প্রতিনিধি;সাতক্ষীরার তালায় সার্জিক্যাল ক্লিনিকে সাধন বিশ্বাসের মৃত্যু ঘিরে ফের প্রশ্ন উঠেছে চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে। স্বজনদের অভিযোগ, অপারেশনের পর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলেও চিকিৎসাসেবার বিভিন্ন দিক নিয়ে তারা সন্তুষ্ট ছিলেন না। এ ঘটনায় যথাযথ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা।সাতক্ষীরার তালা উপশহরের মেলা বাজার এলাকায় অবস্থিত তালা সার্জিক্যাল ক্লিনিক। সম্প্রতি সেখানে সাধন বিশ্বাস নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রতিষ্ঠানটির চিকিৎসাসেবা ও ব্যবস্থাপনা। স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা অবহেলা হয়েছে কি না—তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, কয়েক দিন আগে সাধন বিশ্বাসকে ওই ক্লিনিকে অপারেশন করানো হয়। অপারেশনের পর তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। একপর্যায়ে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেন।
সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর পর স্বজনদের মধ্যে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। তাদের অভিযোগ, চিকিৎসার পুরো প্রক্রিয়া, অপারেশনের পরবর্তী সেবা এবং রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি—এসব বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা ও জবাবদিহি থাকা দরকার।তবে চিকিৎসায় অবহেলা বা অনিয়মের অভিযোগের সত্যতা এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে চিকিৎসাসংক্রান্ত নথিপত্র, অপারেশনের বিবরণ, চিকিৎসকদের বক্তব্য এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বপূর্ণ।
এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যেও প্রশ্ন উঠেছে—কোনো বেসরকারি চিকিৎসাপ্রতিষ্ঠানে রোগীর মৃত্যু বা চিকিৎসাসেবা নিয়ে গুরুতর অভিযোগ উঠলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কীভাবে তা তদন্ত করে এবং রোগীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে?সাধন বিশ্বাসের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ও ঘটনার পেছনে কোনো চিকিৎসাগত অবহেলা, অনিয়ম কিংবা অন্য কোনো কারণ ছিল কি না—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে স্বজনদের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায় থাকলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।একটি প্রাণের মূল্য কোনোভাবেই পরিমাপ করা যায় না। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা জনসমক্ষে তুলে ধরা এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়াই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।প্রশ্ন একটাই—আর কত প্রাণ গেলে চিকিৎসাসেবার মান, রোগীর নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন হবে?