সাভার প্রতিনিধি: সাভারের ধামসোনা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক প্রশাসনিক কর্মকর্তা (ইউপি সচিব) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে ওঠা বিভিন্ন অনিয়ম, ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্ব্যবহারের অভিযোগ নতুন করে জনমনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সম্প্রতি তাকে ধামসোনা ইউনিয়ন থেকে বনগাঁও ইউনিয়নে বদলি করা হলেও স্থানীয়দের একাংশের দাবি, শুধু বদলি নয়—তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন প্রশাসনিক সেবা প্রদানকে কেন্দ্র করে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে। বিশেষ করে জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন, ট্রেড লাইসেন্স, বিধবা, বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ভাতার বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়মের অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে আলোচিত ছিল।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে—একজন জীবিত ব্যক্তিকে কাগজে-কলমে ‘মৃত’ দেখিয়ে মৃত্যু নিবন্ধন সনদ ইস্যুর অভিযোগ। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের ঘটনা শুধু প্রশাসনিক ভুল নয়; এটি নাগরিকের মৌলিক অধিকার ও আইনি নিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
এছাড়া বিভিন্ন সেবা নিতে আসা নাগরিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও দুর্ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ের ভেতরে এক ব্যক্তির শার্টের কলার ধরে টানাহেঁচড়া করতে দেখা যায় বলে অভিযোগ উঠেছে। ভিডিওটি নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
অন্যদিকে, জাতীয় সাপ্তাহিক ‘বিশ্ব মিডিয়া’-এ প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে স্থানীয়দের দাবি, আবুল কালাম আজাদের নামে ও বেনামে সাভারে বাড়ি, জমিসহ বিপুল পরিমাণ সম্পদের তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগকারীদের প্রশ্ন, একজন ইউনিয়ন পরিষদের কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট সংস্থার মাধ্যমে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
স্থানীয় সচেতন মহলের বক্তব্য, যদি এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি থাকে, তবে শুধুমাত্র বদলি কোনো সমাধান হতে পারে না। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে তার আয়-ব্যয়ের উৎস, সম্পদের হিসাব এবং দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।তাদের ভাষ্য, প্রশাসনের প্রতি জনসাধারণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, সত্য উদঘাটন এবং আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।
তবে এ বিষয়ে আবুল কালাম আজাদের বক্তব্য এই প্রতিবেদন প্রস্তুতের সময় পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।