মোহাঃ হাসান আলী স্টাফ রিপোর্টার
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে সাদিয়া ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টার এর পরিচালক ডা. শফিউল ইসলামের মদদে ডাক্তার আর এইচ শুভ নামে এক ভূয়া ডাক্তার চেম্বার করে রোগীদের সাথে প্রতারণা করে আসছেন। এর খবর পেয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখি ডা. আর এইচ (শুভ) শিবগঞ্জ উপজেলার মনাকষা ইউনিয়নের পারচোকা গ্রামের মাদ্রাসা বাজার এর শিউলি ট্রিটমেন্ট সেন্টার নামে একটি চেম্বার খুলে সেখানে প্রতিনিয়ত রোগী দেখছেন।এবং একজন সুস্থ স্বাভাবিক ব্যক্তিকে তার কাছে পাঠানো হলে তিনি তার কাছে ১০০ টাকা ভিজিট চান এবং ৮ থেকে ৯ রকম ওষুধ লিখেন আবার ১৫ দিন পর দেখা করতে বলেন।
ডা. আর এইচ শুভকে তার চিকিৎসা বিষয়ে যোগ্যতা সম্পর্কে জানতে চাইলে সে বলে সে কোন এমবিবিএস ডাক্তার নয় এবং চিকিৎসা বিজ্ঞানে তার কোন রকম ডিপ্লোমা ডিগ্রী ও নেই শুধুমাত্র পল্লী চিকিৎসক হিসেবে তার একটি কোষ করা আছে। কিন্তু তার নিবন্ধন নাম্বার জানতে চাইলে তা বলতে চিনে ব্যর্থতা বোধ করেন।
কোন রকম এমবিবিএস ডিগ্রী ছাড়াই নামের পূর্বে ডাক্তার শব্দ ব্যবহার করা যায় কি না এবং এভাবে চেম্বার করতে পারবে কিনা তার কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন এগুলো আমি করতাম না, এগুলা আমাকে সাদিয়া ক্লিনিকের পরিচালক শফিউল ডাক্তার করে দিয়েছেন এবং করতে বলেছেন।
আমি চেম্বার করতাম না সর্বদাই গ্রামে ঘুরতাম, যে যত টাকা দিত তাই নিতাম, আমাকে এসব প্যাড ভিজিটিং কার্ড সাদিয়া ক্লিনিকের পরিচালক ডাক্তার শফিউল ইসলাম করে দিয়েছেন, তার কথায় আমি এভাবে চেম্বার করি এবং রোগী দেখে ১০০ টাকা ভিজিট চাই কিন্তু কেউ ৫০ টাকা দেই কেউ ৭০ টাকা দেই কেউ ৩০ টাকা দেই যে যাদেই আমি তাই নিই।
এসবের জন্য আমি দায়ী না, আমি গ্রামে ঘুরে রোগী দেখি কেউ ২০-৩০ টাকা দিলে নিই আবার কেউ দেই না আমি কাওকে কিছু বলিনা কখনো, এগুলো আমাকে শফিউল স্যার করিয়েছেন এবং করে দিয়েছেন এই মরমে তিনি আমাকে এসব করান যে এলাকার স্থানীয় আমার পরিচিত আমার কাছে যারা আসবে সকলকে যেন তার ক্লিনিকে আমি পাঠাই।
আমি কারো জন্য ফাঁসতে পারবো না, এসব আমাকে শফিকুল স্যার করিয়েছেন।এমবিবিএস ডিগ্রী ছাড়া কেউ নামের পূর্বে ডাক্তার শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে কিনা এ বিষয়ে শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জনাব আবুল হায়াত কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন এটা কোনভাবেই পারবেনা যদিও সে এমবিবিএস হয় তবুও তাকে অনুমতি নিতে হবে, অনুমতি ব্যতীত কেউ ডাক্তার শব্দটি ব্যবহার করতে পারবে না।
এ বিষয়ে ডাক্তার শফিউল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টাটা করা হলে সে কোনভাবেই আমাদের সাথে যোগাযোগ করেননি একের পর এক বাহানা দিয়ে তিন দিন কোন প্রকার দেখা না করে তিনি শুভর কাছ থেকে তার দেওয়া সকল প্যাড ও ভিজিটিং কার্ড নিয়ে চলে আসেন। এ বিষয়ে ডা. শফিউল ইসলাম কে ফোন দিয়ে পরিচয় দিলে ব্যস্ত আছি বলে ফোন কেটে দেয়, পরবর্তীতে ফোন দিলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি ।