1. admin@dailyksonarbangladesh.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, কালীগঞ্জে বিএনপি’র পেশাজীবী দলের কমিটি গঠন সম্পন্ন শফিক- সভাপতি, লিটন- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নড়াইলের লোহাগড়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নড়াইলে মাদকদ্রব্যসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক শ্যামনগরে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তি বহু পুরুষের সাথে ‎শারিরীক মেলামেশায় জরায়ু অপরেশন নায়েব শর্মিষ্ঠার ‎* জরায়ু কাটাহলেও থেমে নেই অবাধ মেলামেশা । ‎* ডজন খানেক প্রেমের সত্যতা মিলেছে। * স্বামী অক্ষম হওয়ায় তরুণ যুবক তার্গেট নিজের নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকের নামে মামলা? মীর শাহীনকে ঘিরে পুরোনো মামলার নথি, ব্যবসা ও পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তালা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক হাফিজুর রহমান সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড

হিলি সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে সিন্ডিকেটের থাবা, তদন্তের আশ্বাস প্রশাসনের

  • আপডেট সময় : বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই, ২০২৬
  • ১১১ বার পঠিত

মাহবুব (দিনাজপুর) প্রতিনিধিঃ
দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার বাংলাহিলি সরকারি খাদ্য গুদামে (এলএসডি) চলতি বোরো মৌসুমে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে ব্যাপক অনিয়ম ও সিন্ডিকেট প্রভাবের অভিযোগ উঠেছে। ফলে কৃষক তালিকায় নাম, জাতীয় পরিচয়পত্র নম্বর ও মোবাইল নাম্বারের অসঙ্গতি, তালিকাভুক্ত কৃষকদের ধান জমা দিতে না পারা এবং এক জনের মোবাইল নম্বর একাধিক কৃষকের নামে ব্যবহারের ঘটনায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

বাংলাহিলি খাদ্য গুদাম সূত্রে জানা গেছে, চলতি বোরো মৌসুমে বাংলাহিলি এলএসডির মাধ্যমে ২৬৬ জন কৃষকের কাছ থেকে মোট ৫৩২ মেট্রিক টন ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। সরকার নির্ধারিত প্রতি মণ ধানের মূল্য ছিল ১ হাজার ৪৪০ টাকা।

তবে অনুসন্ধানে উঠে এসেছে ভিন্ন চিত্র। অভিযোগ রয়েছে, প্রকৃত কৃষকদের একটি বড় অংশ সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহের সুযোগ পাননি। বরং একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পুরো কৃষক তালিকা নিয়ন্ত্রণ করে ধান সংগ্রহ কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। তালিকায় অনেক কৃষক নামমাত্র থাকলেও তাদের পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিরা ধান সরবরাহ করেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

স্থানীয় কৃষকদের প্রশ্ন, কৃষক তালিকা তৈরি, জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই এবং ব্যাংক হিসাব খোলার মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রক্রিয়াগুলো কিভাবে সম্পন্ন হয়েছে। যথাযথ যাচাই-বাছাই ছাড়াই এসব কাজ হয়েছে, নাকি কোনো সিন্ডিকেট চক্রের হস্তক্ষেপে তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে, তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

অনুসন্ধানে কৃষক তালিকার বেশ কয়েকটি অসঙ্গতি সামনে আসে। তালিকায় থাকা কৃষক জাকারিয়ার মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে ফোন রিসিভকারী ব্যক্তি নিজেকে মুন্না পরিচয় দিয়ে বলেন, আমি জাকারিয়া নই। আমার ফোন নাম্বার এখানে কিভাবে এসেছে, সেটাই বুঝতে পারছি না।

তালিকায় থাকা কৃষক তৌহিদ হাসান জানান, আমি ধান দেইনি, তবে আমার ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করে চকচকা আলিম মাদ্রাসার শিক্ষক গোলাম রাব্বানী গুদামে ধান দিয়েছে। আমি ধান দেওয়ার সুযোগ পাইনি।

একইভাবে কৃষক তালিকায় থাকা ইমামুল ইসলাম জানান, তার নাম তালিকায় থাকলেও তিনি খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে পারেননি। তিনি বলেন, অনেক চেষ্টা করেও ধান দেওয়ার সুযোগ পাইনি।

আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া যায় আমিনুল ইসলামের মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করলে। ফোন রিসিভকারী ব্যক্তি নিজেকে সাখাওয়াত হোসেন হিসেবে পরিচয় দেন। অথচ কৃষক তালিকায় সাখাওয়াত হোসেনের নামও আলাদা ভাবে রয়েছে। ফলে একই ব্যক্তির নাম্বার একাধিক কৃষকের নামে ব্যবহারের বিষয়টি নিয়ে সচ্ছতার প্রশ্ন উঠেছে।

তালিকাভুক্ত কৃষক আবুল কাসেম মন্ডলের কাছে ধান দিয়েছেন কিনা জানতে চাইলে তিন বলেন, আমি ৩ টন ধান গুদামে সরবরাহ করেছি বলে ফোন রেখে দেন। এর কিছু পর তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার থেকে সাখাওয়াত হোসেন নামে এক ব্যক্তি কোন কিছু জিজ্ঞেস না করেই ক্ষিপ্ত হয়ে সাংবাদিককে ফোনে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করেন এবং হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে ধারণা তৈরি হয়েছে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে সক্রিয় সিন্ডিকেটের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হতে পারেন এই সাখাওয়াত হোসেন। মোবাইলে তার অশ্লীল গালাগালের রেকর্ড সংরক্ষণ আছে।

এদিকে তালিকাভুক্ত একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, তারা সরকারি খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাননি। অনেকেই দাবি করেছেন, তাদের নাম ব্যবহার করে অন্য ব্যক্তিরা ধান সরবরাহ করে অসৎ উদ্দেশ্য হাসিল করেছেন। ফলে প্রকৃত কৃষকেরা ধান সরবরাহ করতে পারেনি এবং সরকারের সুফল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।

বাংলাহিলি সরকারি খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সাজেদুর রহমান বলেন, আমি বর্তমানে দিনাজপুর থেকে ঠাকুরগাঁও যাচ্ছি। বৃহস্পতিবার অফিসে এসে বিষয়টি নিয়ে বসব এবং অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখব।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক দেওয়ান মো. আতিকুর রহমান বলেন, কৃষক তালিকা যাচাই-বাছাই করে যদি কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়, তাহলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জর্জ মিত্র চাকমা বলেন, কৃষক তালিকায় কিছু অসঙ্গতির বিষয় নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ বিষয়ে দিনাজপুর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মনিরুল ইসলাম বলেন, কৃষক তালিকা কৃষি বিভাগ প্রস্তুত করে দিয়েছে। আমরা ব্যক্তিগত ভাবে কৃষকদের চিনি না। যে তালিকা দেওয়া হয়েছে, সেই তালিকা অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। তালিকাভুক্ত কৃষকরা ধান সরবরাহ করতে না পারার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, যদি প্রকৃতপক্ষে এমন ঘটনা ঘটে থাকে, তাহলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপনেওয়া হবে।

এদিকে সরকারি খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে অনিয়ম ও সিন্ডিকেটের অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি নিয়ে কৃষক ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকরা।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক সোনার বাংলাদেশ
Theme Customized By Shakil IT Park