
নিজস্ব প্রতিবেদক:দক্ষিণ এশিয়ার পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতায় বাংলাদেশকে অত্যন্ত বিচক্ষণ ও ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মো. ইয়ারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, “বাংলাদেশ আজ লেপের মাঝখানে। এক পাশে ভারত, অন্য পাশে চীন। এই বাস্তবতায় আবেগ, পক্ষপাত বা পরাশক্তির প্রতিযোগিতায় জড়িয়ে পড়ার সুযোগ নেই। বাংলাদেশের একমাত্র পথ হওয়া উচিত জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।”
তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য ভারতের পর্যটন ভিসা পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত আন্তর্জাতিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। রাষ্ট্রগুলো বন্ধুত্ব বা বৈরিতার আবেগ দিয়ে নয়, নিজেদের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে বাংলাদেশেরও প্রতিটি কূটনৈতিক পদক্ষেপ হতে হবে বাস্তববাদী এবং দেশের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থনির্ভর।ইয়ারুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ বর্তমানে এমন একটি কৌশলগত অবস্থানে রয়েছে, যা ভারত ও চীন—উভয় দেশের কাছেই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অবস্থানকে দুর্বলতা নয়, বরং শক্তিতে পরিণত করতে হবে। দুই দেশের প্রতিযোগিতা থেকে বাংলাদেশ যেন সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক, বাণিজ্যিক, প্রযুক্তিগত ও অবকাঠামোগত সুবিধা আদায় করতে পারে, সে লক্ষ্যেই রাষ্ট্রীয় কূটনীতি পরিচালিত হওয়া উচিত।তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ কারও বিরুদ্ধে নয়, আবার কারও ওপর নির্ভরশীলও নয়। আমাদের স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি, সার্বভৌম সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা এবং জাতীয় মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখেই সকল দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্মান ও সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে।”বাংলাদেশ কংগ্রেসের মহাসচিব বলেন, বিশ্বরাজনীতির বর্তমান বাস্তবতা প্রমাণ করে, কোনো রাষ্ট্র স্থায়ী বন্ধু বা শত্রু নয়; স্থায়ী হলো জাতীয় স্বার্থ। তাই বাংলাদেশেরও উচিত আন্তর্জাতিক প্রতিটি সম্পর্ককে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে মূল্যায়ন করা এবং দেশের জনগণের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া।তিনি বলেন, “ভারত আমাদের প্রতিবেশী, চীন আমাদের অন্যতম উন্নয়ন সহযোগী। উভয়ের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখাই বাংলাদেশের স্বার্থ। তবে সেই সম্পর্ক হবে সমতা, পারস্পরিক সম্মান এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে—কোনো চাপ বা প্রভাবের ভিত্তিতে নয়।”ইয়ারুল ইসলাম বলেন, “বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান আমাদের জন্য যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমনি বিশাল সম্ভাবনাও। দক্ষ নেতৃত্ব ও দূরদর্শী কূটনীতির মাধ্যমে এই অবস্থানকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ও আন্তর্জাতিক মর্যাদায় রূপান্তর করা সম্ভব।”
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার ভবিষ্যতেও ভারসাম্যপূর্ণ ও স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে বাংলাদেশকে এমন একটি রাষ্ট্রে পরিণত করবে, যার সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নকে ভারত, চীনসহ বিশ্বের সব দেশই নিজেদের কৌশলগত প্রয়োজন হিসেবে বিবেচনা করবে।