নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন পুটিয়াখালী মৌজার ক-তফসিলভুক্ত সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হলেও পরবর্তীতে একই স্থানে পুনরায় কার্যক্রম পরিচালনার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের উপস্থিতিতে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনার পরও যদি সরকারি জমিতে পুনরায় কার্যক্রম চালানো সম্ভব হয়, তাহলে উচ্ছেদ অভিযানের বাস্তব ফলাফল কোথায়? এমন প্রশ্ন এখন সাধারণ মানুষের মুখে মুখে। বিশেষ করে জমি সংক্রান্ত নথিপত্র, উচ্ছেদ-পরবর্তী নজরদারি এবং সরকারি সম্পত্তি সংরক্ষণের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নাজির রুহুল আমিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি)-রাহাত খানের ভূমিকা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, সরকারি জমি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তাদের কার্যক্রম ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তারা বলছেন, উচ্ছেদের পর সরকারি জমি পুনরায় ব্যবহারের সুযোগ সৃষ্টি হওয়ার ঘটনায় প্রশাসনিক তদারকির কোনো ঘাটতি ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট হওয়া জরুরি।
এদিকে ধারাবাহিকভাবে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, অভিযোগগুলো যদি ভিত্তিহীন হয় তাহলে তা জনসম্মুখে পরিষ্কার করা উচিত, আর যদি অভিযোগের সত্যতা থাকে তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তবে অভিযোগের বিষয়ে নাজির রুহুল আমিন ও সংশ্লিষ্ট সহকারী কমিশনার (ভূমি)- রাহাত খান এর বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা মনে করছেন, সরকারি সম্পত্তি সংক্রান্ত এমন ঘটনায় দ্রুত, স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত তথ্য উদঘাটন করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রশাসনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।এলাকাবাসীর দাবি, পুটিয়াখালীর সরকারি জমি সংক্রান্ত পুরো বিষয়টি তদন্ত করে উচ্ছেদ-পরবর্তী পরিস্থিতি, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের ভূমিকা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা হোক। একই সঙ্গে প্রকৃত ঘটনা জনগণের সামনে তুলে ধরারও আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
(চলবে — অনুসন্ধানী ফলোআপ প্রতিবেদন)