1. admin@dailyksonarbangladesh.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১১ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, কালীগঞ্জে বিএনপি’র পেশাজীবী দলের কমিটি গঠন সম্পন্ন শফিক- সভাপতি, লিটন- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নড়াইলের লোহাগড়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নড়াইলে মাদকদ্রব্যসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক শ্যামনগরে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তি বহু পুরুষের সাথে ‎শারিরীক মেলামেশায় জরায়ু অপরেশন নায়েব শর্মিষ্ঠার ‎* জরায়ু কাটাহলেও থেমে নেই অবাধ মেলামেশা । ‎* ডজন খানেক প্রেমের সত্যতা মিলেছে। * স্বামী অক্ষম হওয়ায় তরুণ যুবক তার্গেট নিজের নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকের নামে মামলা? মীর শাহীনকে ঘিরে পুরোনো মামলার নথি, ব্যবসা ও পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তালা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক হাফিজুর রহমান সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড

কিছুতেই কান্না থামছিল না শারমিন আক্তারের

  • আপডেট সময় : রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬
  • ৯৭ বার পঠিত

কিছুতেই কান্না থামছিল না শারমিন আক্তারের। চোখের জল ফেলতে ফেলতে বলছিলেন, ‘আমি তো কারো দয়া চাইনি।নিজের যোগ্যতা প্রমাণের সুযোগ চেয়েছি কেবল। কিন্তু সেটাও পেলাম না সিস্টেমের গলদের কারণে।’জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শারমিন। তাঁর কান্নার আড়ালে লুকিয়ে আছে গভীর এক বঞ্চনা।সেই গল্পে যাওয়ার আগে ঘুরে আসি সাতক্ষীরা থেকে।
মেধাবী এই তরুণীর বাড়ি জেলার শ্যামনগরের ৫ নম্বর কৈখালী ইউনিয়নে। চার ভাই-বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট। বাবা আব্দুল মজিদ কারিগর কৃষক।মা মর্জিনা বেগম গৃহিণী। শৈশব থেকে অনটনের সঙ্গে লড়ছেন শারমিন। খুব দুরন্ত ছিলেন। স্কুল থেকে ফিরে বই-খাতা রেখে বেরিয়ে পড়তেন। পাড়া মাতিয়ে ফিরতে ফিরতে বেলা গড়িয়ে যেত।পড়াশোনাও চলত সমানতালে। শৈশবে স্বপ্ন দেখতেন—ডাক্তার হবেন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছিল। তৃতীয় শ্রেণিতে পড়ার সময় একবার অসুখ হলো। সেরে ওঠার পর খেয়াল করলেন, আগের মতো সেভাবে পড়তে পারছেন না। খেলতে গেলেও মাঝে-মধ্যে হোঁচট খাচ্ছেন। মা ভেবেছিলেন অসুখ থেকে ওঠায় শরীর দুর্বল হয়ে গেছে। ভালো করে খাওয়া-দাওয়া করলে ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু তা আর হলো না। ধীরে ধীরে কমতে থাকল চোখের জ্যোতি। ছোট অক্ষরগুলো পড়তে অসুবিধা হতো বেশি। চোখের একেবারে কাছে নিলে তবেই দেখতেন। স্থানীয় ডাক্তারের কাছে তাঁকে নিয়ে গেলে ডাক্তার বললেন, ‘পুষ্টিকর খাবার খেলে বড় হতে হতে সব ঠিক হয়ে যাবে।’
হঠাৎ যেন সূর্যগ্রহণ : কিন্তু সময় যত গড়ায় শারমিনের চোখের আলো তত কমে। আব্দুল মজিদ কারিগর সাতক্ষীরা, খুলনার ডাক্তার দেখিয়ে শেষে ঢাকায় নিয়ে এলেন মেয়েকে। ডাক্তাররা বললেন, ‘ওর চোখের শিরাগুলো শুকিয়ে গেছে। এটা ঠিক হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।’কিন্তু মা-বাবার মন মানল না। তাঁরা জমিজমা বিক্রি করে মেয়েকে নিয়ে গেলেন ভারতে। মাসখানেক ছিলেন। কিন্তু কোনো উন্নতি নেই। ধীরে ধীরে আঁধার হয়ে এলো শারমিনের দুনিয়া। পড়াশোনা বন্ধ। মেয়ের এই করুণ দশা সইতে না পেরে এক পর্যায়ে বাবার হার্ট অ্যাটাক হলো। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি হলেন ঘরবন্দি। এর পর থেকে পরিবারের ভার শারমিনের বড় ভাই আলমগীরের কাঁধে। তত দিনে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র। টিউশনি করে চলতেন।বোঝা হতে চাইলেন না : বছর দুয়েক স্কুলে যেতে পারলেন না শারমিন। বইয়ের সঙ্গেও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। তবে শারমিন চাইতেন বইয়ের দুনিয়ায় ফিরতে, অজানাকে জানার তীব্র আকাঙ্ক্ষা ছিল তাঁর। কারো বোঝা নয়, নিজের পায়ে দাঁড়াতে চাইলেন। ছুটিতে বড় ভাই বাড়িতে এলে তাঁকে বললেন, ‘ভাইয়া রে, এভাবে ঘরে থাকতে ভালো লাগে না। আমি আবার পড়তে চাই।’বড় ভাই খোঁজ নিয়ে জানলেন, ঢাকার ব্যাপটিস্ট মিশনে শারমিনের মতো শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার সুযোগ আছে। তিনি শারমিনকে নিয়ে এলেন ঢাকায়। ভর্তি করিয়ে দিলেন মিরপুরের ব্যাপটিস্ট মিশন ইন্টিগ্রেটেড স্কুলে। এখানেই ব্রেইলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। সেই সুবাদে আবার বইয়ের সঙ্গে মিতালি।আবার গ্রামে : প্রাথমিকের গণ্ডি পেরিয়ে গ্রামে ফেরেন শারমিন। ভর্তি হতে গেলেন কৈখালী এসআর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। কিন্তু শুরুতে শিক্ষকরা রাজি হননি। দৃষ্টিহীন এই তরুণী কিভাবে পড়াশোনা করবেন? অনুনয়-বিনয় করে শারমিন বললেন, ‘স্যার, আমি পারব। একটা সুযোগ দিন। ফেল করলে দায় আমার।’ অবশেষে সুযোগ হলো। এফডিএ নামের এক সংগঠন তাঁকে ব্রেইল বই দিল।২০১৫ সালে মানবিক বিভাগ থেকে জিপিএ ৪.৪৪ পেয়ে এসএসসি পাস করলেন শারমিন। আবার ঢাকায় ফিরে ভর্তি হলেন বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজে। এইচএসসিতে পেলেন জিপিএ ৪.১৭।আনন্দময় ক্যাম্পাস জীবন : এইচএসসি দিয়ে সহপাঠীরা প্রায় সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কোচিং করতে লাগলেন। কিন্তু শারমিনের সে সুযোগ কই? পরে বন্ধুদের শিটগুলো ফটোকপি করে নিতেন। পরিচিতদের মাধ্যমে রেকর্ডকৃত সেই শিট পড়তেন। এভাবে পড়েই ঢাকা, জাহাঙ্গীরনগর ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা দিলেন। ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে সুযোগ মিলল জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে। ক্যাম্পাসে তাঁর ঠিকানা ১১০ প্রীতিলতা হল। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বিশ্ববিদ্যালয় জীবনটা আনন্দে কেটেছে তাঁর।শারমিন বলেন, ‘চোখের দৃষ্টি হারিয়ে ফেলেছি। কিন্তু আমি চাইনি কারো বোঝা হয়ে থাকতে। নিজের পায়ে দাঁড়ানোর জন্য শত প্রতিকূলতার মধ্যেও পড়াশোনা চালিয়ে গেছি। ভাইয়া যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে।’সমমনা কয়েকজনের সঙ্গে মিলে ২০১৯ সালে ক্যাম্পাসে একটি সংগঠনও গড়েন। নাম ‘ডিজেবল ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড হিউম্যান রিসার্চ অর্গানাইজেশন’। লক্ষ্য—তাঁর মতো প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা। ক্যাম্পাস ছেড়ে জীবিকার সন্ধানে উদ্যোক্তাদের একেকজন একেক দিকে চলে গেছেন। আপাতত স্থগিত সংগঠনটির কার্যক্রম। নতুন করে আঁধার : একসময় সব দেখতেন শারমিন। শৈশব ছিল রঙিন, কৈশোর বিবর্ণ। তখন থেকে চোখের আলোয় নয়, তিনি পৃথিবীকে বোঝেন অনুভূতি দিয়ে। কণ্ঠস্বর শুনে মানুষ চেনা, ভাতের হাঁড়ির গন্ধে দুপুর বোঝা, সাদাছড়িতে পথ মাপা। আর আছে ভয়। পায়ের শব্দে বুঝতে পারেন কেউ আসছে। কিন্তু কোনো স্থাপনা বা স্থির বস্তু তো শব্দ করে না। ফলে সেগুলোর সঙ্গে ধাক্কাও খেতে হয়েছে ঢের। দীর্ঘদিন ক্যাম্পাসে থেকে সবকিছুর সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন।স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করার পর ক্যাম্পাস ছাড়তে হয়। এবার জীবিকার লড়াই। হল ছেড়ে তিনি ওঠেন মিরপুরের একটা মেসে। নতুন জায়গা মানেই তাঁর কাছে নতুন অন্ধকার। তবু তিনি হাঁটতে লাগলেন। বিভিন্ন জায়গায় চাকরির আবেদন করতে থাকেন। ২০২৫ সালে প্রথমবারের মতো বসলেন চাকরির পরীক্ষায়। খাদ্য পরিদর্শক পদে। আয়োজকরাই শ্রুতিলেখক জোগাড় করে দিয়েছিল।সেদিন কেন কাঁদছিলেন : এই প্রশ্নের জবাব পেতে ফিরতে হবে ১৬ মে, ডেমরার শামসুল হক খান স্কুল অ্যান্ড কলেজে। সেখানে সেদিন ছিল বাংলাদেশ রেলওয়ের সহকারী স্টেশন মাস্টার পদের পরীক্ষা। শারমিনও ছিলেন প্রার্থী।সকাল সাড়ে ৯টায় কেন্দ্রে প্রবেশ করলেন। পরীক্ষা শুরু সকাল ১০টায়। কয়েক মিনিটের মাথায় বেরিয়ে এলেন শারমিন। নিয়োগ বিজ্ঞপ্তিতে শ্রুতিলেখকের বিষয়ে কিছু বলা ছিল না। ফলে শারমিন অন্যান্য পরীক্ষার মতোই একজন শ্রুতিলেখক নিয়ে গেলেন। পরীক্ষার হলে বসে নিজের নাম-ধাম লিখছিলেন। এমন সময় হলে প্রবেশ করলেন এক ভদ্রলোক। নিজেকে তিনি বাংলাদেশ রেলওয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়েছেন বলে শারমিনের ভাষ্য। ‘শ্রুতিলেখকের অনুমতি নেই’—এই অজুহাতে তিনি শারমিনকে বের করে দিলেন হল থেকে। চোখের জল ফেলতে ফেলতে হল থেকে বেরিয়ে গেলেন তিনি।প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা : শারমিন বললেন, ‘ঘরে বাবা অসুস্থ। মায়ের অবস্থা ভালো নেই। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর জন্য চাকরির আশায় বিভিন্ন জায়গায় আবেদন করি। কিন্তু প্রতিবন্ধী হওয়ায় নিয়োগ পরীক্ষার সময় শ্রুতিলেখক নিয়ে আমাকে হয়রানির শিকার হতে হয়। আমার অনুমোদিত শ্রুতিলেখককে বাদ দিয়ে বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আয়োজকরা তাঁদের দেওয়া শ্রুতিলেখক নিয়ে পরীক্ষা দিতে বাধ্য করেন। কিন্তু অসুবিধা হলো—বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তাঁরা আমার বলে দেওয়া উত্তর নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে লিখে শেষ করতে পারেন না। ফলে প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় টিকে থাকা অসম্ভব হয়ে পড়ছে।’এই জটিলতা নিরসনে এখন প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান শারমিন। চান একটা সরকারি চাকরি। বললেন, ‘তিনি (প্রধানমন্ত্রী) যেন এমন একটা নিদের্শনা দেন, যাতে আমার মতো এই সমস্যায় আর কাউকে ভুগতে না হয়, যাতে প্রতিবন্ধীরা কোনো রকম হয়রানি ছাড়াই চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিতে পারেন।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক সোনার বাংলাদেশ
Theme Customized By Shakil IT Park