নড়াইল জেলা প্রতিনিধি;শিক্ষার মানোন্নয়নে নড়াইলের কালিয়া উপজেলার বড়দিয়া মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয় মিলনায়তনে অভিভাবক ও শিক্ষার্থী সমাবেশ, শিক্ষা উপকরণ, ফুটবল, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা এবং গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এ উপলক্ষে বুধবার (১৭ জুন) কালিয়া উপজেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের (বিআরডিবি) উদ্যোগে এসব অনুষ্ঠানে ওই বিদ্যালয়ের ২৫০ জন ছাত্রী ও তাদের অভিভাবকরা অংশগ্রহণ করেন। ব্যতিক্রমী এ আয়োজনে মুগ্ধ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। এই অনুষ্ঠানে ২৫০ জন ছাত্রীর মাঝে বিভিন্ন প্রজাতির ২৫০টি গাছের চারা, বাল্যবিয়ে রোধে আলোচনা, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা, সঞ্চয়কৃত টাকার চেক প্রদান, খাতা, কলম, ইংরেজি অভিধানসহ শিক্ষা উপকরণ পেয়ে খুশি শিক্ষার্থীরা।
কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন-কালিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শ্রাবণী বিশ্বাস, কালিয়া উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার আনোয়ার হোসেন, বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি) নড়াইলের উপ-পরিচালক গোলাম রসুল, বিআরডিবি কালিয়া উপজেলা কর্মকর্তা সুজন কুমার চন্দ্র, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আছমা চৌধুরীসহ অনেকে। বক্তারা বলেন, শিক্ষা জীবন থেকেই সঞ্চয়ের মানসিকতা গড়ে তুলতে ‘সঞ্চয় সেবা’, কিশোরীবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা ও সচেনতামূলক প্রশিক্ষণসহ নানা বিষয়ে শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ব্যতিক্রমী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
একজন শিক্ষার্থী যদি প্রতি মাসে ২০০ টাকা করে বছরে ২ হাজার ৪০০ টাকা সঞ্চয় জমা করে তাহলে সরকারি প্রণোদনা পাবে ৪ হাজার ৮০০ টাকা। ফলে বছর শেষে একজন শিক্ষার্থী সঞ্চয় ও প্রণোদনাসহ পাচ্ছে ৭ হাজার ২০০ টাকা। এতে তার পড়ালেখার খরচ চালিয়ে নেয়াসহ আর্থিক সুবিধা হচ্ছে। নড়াইলে ছয়টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দরিদ্র মেধাবী ১ হাজার ২০০ শিক্ষার্থী এ প্রকল্পের সুফল পাচ্ছে। ১৮ বছরের আগে অর্থাৎ বাল্যবিয়ে হলে ওই শিক্ষার্থী সরকারি প্রণোদনার টাকা পাবে না। শুধু তার জমাকৃত টাকা পাবে। এর প্রকল্পের উদ্দেশ্য বাল্যবিয়ে রোধ করে ছাত্রীদের আর্থিক সুযোগ-সুবিধা দেয়া। অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ আবদুল ছালাম বলেন, একজন সন্তানকে ভালো ভাবে মানুষ করতে এবং পড়ালেখা শেখাতে তার বাবা-মাকে অনেক কষ্ট করতে হয়। বাবা হয়ত রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে অনেক পরিশ্রম করে টাকা উপার্জন করেন। মা সংসারে অনেক কষ্ট করেন। তবু বাবা-মা সন্তানকে পড়ালেখা শেখান। ভালো ভাবে মানুষ করতে চান। তাই বাবা-মাকে সম্মান করতে হবে। পারিবারিক বন্ধন এবং শিক্ষকদের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে প্রতিটি শিক্ষার্থীকে ‘ভালো মানুষ’ হতে হবে। তাহলে জীবন সার্থক হবে। দেশ ও জনকল্যাণে কাজ হবে।
অনুষ্ঠানের সভাপতি কালিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, একটি ভালো চিন্তা, আরেকটি ভলো চিন্তার জন্ম দেয়। তাই শিক্ষার্থীসহ সবাইকে সবসময় ভালো চিন্তা-ভাবনা করতে হবে। পড়ালেখায় মনোযোগী হতে হবে। কোনো ধরণের অন্যায়-অপকর্মকে প্রশ্রয় দেয়া যাবে না। সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে।