মেটার এআই-চালিত সাপোর্ট চ্যাটবটকে ফাঁকি দিয়ে একাধিক জনপ্রিয় ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রবেশের দাবি করেছে হ্যাকাররা। সাম্প্রতিক কয়েক দিনে বেশ কিছু উচ্চ-প্রোফাইল অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার ঘটনা সামনে এসেছে, যা সাইবার নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।হ্যাক হওয়া অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে রয়েছে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা প্রশাসনের হোয়াইট হাউসের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট, যার অনুসারী সংখ্যা ২৪ লাখের বেশি। এছাড়াও যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের চিফ মাস্টার সার্জেন্টের অ্যাকাউন্ট এবং জনপ্রিয় বিউটি ব্র্যান্ড সেফোরার অ্যাকাউন্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।সাইবার নিরাপত্তা গবেষকদের দাবি, হ্যাকাররা মেটার এআই-ভিত্তিক সাপোর্ট সিস্টেমের একটি দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে এই অ্যাকাউন্টগুলোতে প্রবেশ করে। বিভিন্ন টেলিগ্রাম গ্রুপে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, কীভাবে হ্যাকাররা চ্যাটবটকে ব্যবহার করে টার্গেট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড রিসেট করতে সক্ষম হয়।ভিডিও অনুযায়ী, হ্যাকাররা চ্যাটবটকে “পাসওয়ার্ড রিসেট ইমেইল” পাঠানোর নির্দেশ দেয় এবং ভেরিফিকেশন কোড নতুন একটি ইমেইল ঠিকানায় পাঠাতে বলে। পরিচয় যাচাইয়ের জন্য চ্যাটবট যখন সেলফি ভিডিও চায়, তখন তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি করা ভুয়া ভিডিও জমা দেয়। যাচাই সম্পন্ন হলে হ্যাকাররা অ্যাকাউন্টের ইমেইল পরিবর্তন করে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়।গবেষকদের মতে, এই পদ্ধতিটি “সোশ্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং”-এর একটি নতুন রূপ, যেখানে মানুষকে প্রতারণার মাধ্যমে তথ্য নেওয়ার বদলে এআই সিস্টেমকেই বিভ্রান্ত করা হয়েছে।উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, এই পদ্ধতিতে দুই-ধাপ যাচাইকরণ (টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন) ব্যবস্থাও এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে, যা সাধারণত অ্যাকাউন্ট সুরক্ষার জন্য ব্যবহৃত হয়।এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য না করলেও মেটার কমিউনিকেশন প্রধান অ্যান্ডি স্টোন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, সমস্যাটি সমাধান করা হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত অ্যাকাউন্টগুলো সুরক্ষিত করা হচ্ছে।তবে ঠিক কতগুলো অ্যাকাউন্ট এইভাবে হ্যাক হয়েছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যবহারকারী সহায়তা ব্যবস্থায় মানুষের পরিবর্তে এআই ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ার ফলে এমন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। চলতি বছরের মার্চে মেটা ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের জন্য এআই-চালিত সাপোর্ট চালু করে, যেখানে পাসওয়ার্ড রিসেটসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্ট ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে সহায়তা দেওয়ার কথা বলা হয়।তবে ভুক্তভোগী ব্যবহারকারীরা অভিযোগ করেছেন, তাদের অ্যাকাউন্ট হ্যাক হওয়ার পর কোনো মানব সহায়তার কাছে বিষয়টি পৌঁছানোর সুযোগ ছিল না, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।