অনুসন্ধানী প্রতিবেদন | নিজস্ব প্রতিবেদক
তালা উপজেলার ইসলামকাটি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের ঝাড়ুদার মোকাম সরদারকে ঘিরে ওঠা বিতর্ক দিন দিন আরও গভীর হচ্ছে। পূর্বের ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশের পর স্থানীয় বিভিন্ন ব্যক্তি, ভুক্তভোগী এবং সচেতন মহল থেকে নতুন নতুন অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করেছে। বিশেষ করে তার সম্পদের উৎস, রাজনৈতিক ছত্রচ্ছায়া এবং অফিসকেন্দ্রিক প্রভাব নিয়ে এখন এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
সাধারণ কর্মচারী থেকে “ক্ষমতাধর ব্যক্তি”!
স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি দপ্তরের একজন সাধারণ ঝাড়ুদার হয়েও মোকাম সরদার নিজেকে এমনভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছেন যেন তিনি অফিসের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণকারী ব্যক্তিদের একজন। দলিল সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজ, অফিসে প্রবেশাধিকার কিংবা দ্রুত সেবা পাওয়ার ক্ষেত্রেও তার প্রভাব রয়েছে বলে দাবি অনেকের।
একাধিক ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “অফিসে অনেক কাজই তার মাধ্যমে করতে হয়। সাধারণ মানুষ সরাসরি গেলে হয়রানির শিকার হন বলেও অভিযোগ আছে।”
যদিও এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এখনো প্রকাশ্যে কোনো মন্তব্য করেনি।
সম্পদের সঙ্গে আয়ের অমিল?
এলাকার বিভিন্ন সূত্র দাবি করছে, মোকাম সরদারের বর্তমান আর্থিক অবস্থান তার সরকারি চাকরির বেতনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অভিযোগ রয়েছে, তিনি অল্প সময়ের মধ্যে একাধিক স্থানে জমি ক্রয়, বাড়ি নির্মাণ এবং বিভিন্ন ব্যবসায় বিনিয়োগ করেছেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ বলছেন, “যে ব্যক্তি কয়েক বছর আগেও সাধারণ জীবনযাপন করতেন, তিনি এখন কিভাবে বিলাসবহুল জীবন কাটাচ্ছেন—সেটাই বড় প্রশ্ন।”
তবে এসব তথ্যের সরকারি নথিপত্র এখনো প্রকাশ্যে আসেনি এবং স্বাধীনভাবে যাচাইও করা সম্ভব হয়নি।
রাজনৈতিক পালাবদলেও অবস্থান অটুট!
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, মোকাম সরদারের সবচেয়ে বড় শক্তি হচ্ছে সব সময় ক্ষমতাসীন ও প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা। দীর্ঘদিন ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত থাকার পর বর্তমানে ভিন্ন রাজনৈতিক বলয়ের সাথেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে তুলেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
অনেকের মতে, রাজনৈতিক পালাবদল হলেও নিজের অবস্থান অক্ষুণ্ণ রাখার কৌশলই তাকে আরও প্রভাবশালী করেছে।
তদন্তের দাবিতে সরব সচেতন মহল
এলাকার সচেতন নাগরিক ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলছেন, অভিযোগগুলো যদি মিথ্যা হয় তাহলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া উচিত। আর যদি সত্যতা পাওয়া যায়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
তাদের দাবি, একজন নিম্নপদস্থ সরকারি কর্মচারীর সম্পদের হিসাব ও জীবনযাত্রা খতিয়ে দেখতে দুদক, জেলা প্রশাসন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত তদন্ত হওয়া দরকার।
অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা
সাব-রেজিস্ট্রি অফিসের সেবাগ্রহীতাদের একাংশ বলছেন, এ ধরনের অভিযোগের কারণে পুরো অফিসের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। সাধারণ মানুষ সরকারি দপ্তরের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন কেউ কেউ।বক্তব্য পাওয়া যায়নি
অভিযোগের বিষয়ে মোকাম সরদারের বক্তব্য নেওয়ার জন্য যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে তার বক্তব্য ছাড়া অভিযোগগুলোর সত্যতা পুরোপুরি নিশ্চিত হওয়া সম্ভব হয়নি।
উপসংহার
মোকাম সরদারকে ঘিরে ওঠা অভিযোগ এখন শুধুই ব্যক্তিগত সমালোচনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; বরং এটি সরকারি দপ্তরে প্রভাব, অনিয়ম ও অস্বাভাবিক সম্পদ অর্জনের বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটনই এখন এলাকাবাসীর প্রধান দাবি।