নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাভার উপজেলার এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সচিব মোহাম্মদ নাহিদ হাসানকে ঘিরে ওঠা মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ প্রকাশের পর স্থানীয় প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ প্রকাশের পর বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে নড়াচড়া দেখা গেলেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো চূড়ান্ত পদক্ষেপ বা আনুষ্ঠানিক তদন্তের অগ্রগতি প্রকাশ পায়নি।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, অভিযোগ প্রকাশের পর প্রশাসনের কিছু দায়িত্বশীল কর্মকর্তা অনানুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি নিয়ে খোঁজখবর শুরু করেছেন। তবে এখনো পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক তদন্ত কমিটি গঠন, বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ কিংবা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে লিখিত কোনো ব্যাখ্যা জনসমক্ষে আসেনি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ও কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
এলাকাবাসীর একাংশের অভিযোগ, গুরুত্বপূর্ণ অভিযোগ সামনে আসার পরও দীর্ঘ সময় ধরে বিষয়টি ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে জনমনে সন্দেহ তৈরি হচ্ছে। স্থানীয় এক সচেতন ব্যক্তি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন,
“যে ধরনের অভিযোগ সামনে এসেছে, সেটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর। দ্রুত তদন্ত না হলে সাধারণ মানুষের আস্থা নষ্ট হবে। সত্য উদঘাটনের জন্য প্রশাসনের স্বচ্ছ পদক্ষেপ জরুরি।”
স্থানীয়দের দাবি, অভিযোগ সত্য কিংবা মিথ্যা—যাই হোক না কেন, বিষয়টি দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন। কারণ দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে তা একদিকে যেমন গুজব ছড়ানোর সুযোগ তৈরি করে, অন্যদিকে প্রশাসনিক জবাবদিহিতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।
অন্যদিকে অভিযুক্ত ইউপি সচিব নাহিদ হাসানের ঘনিষ্ঠজনরা শুরু থেকেই অভিযোগকে “ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত” বলে দাবি করে আসছেন। তাদের ভাষ্য, ব্যক্তিগত বিরোধ ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যেই পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে। তারা আরও দাবি করেন, কোনো ধরনের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়াই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় মহলে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে সচেতন মহলের অভিমত, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে সেটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রশাসনের দায়িত্ব। একই সঙ্গে তারা মনে করেন, অভিযোগ প্রমাণের আগেই কাউকে অপরাধী হিসেবে উপস্থাপন করাও অনুচিত। তাই একটি নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তই পারেপ্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে।
স্থানীয় বিশ্লেষকদের মতে, ইউনিয়ন পরিষদের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ জনমনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। ফলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে পরিস্থিতি পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন হলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা।
এদিকে সাভার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় তথ্য-উপাত্ত যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অভিযোগের বিষয়টি সামনে আসার পর এলাকাবাসীর মধ্যে নানা আলোচনা চললেও অধিকাংশ মানুষের একটাই প্রত্যাশা—দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হোক। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে অপপ্রচারকারীদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।