নিজস্ব প্রতিবেদন:সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিশখালী ইউনিয়নের দলুয়া গ্রাম এখন তোলপাড় পরকীয়া সম্পর্ক, মাদক ব্যবসা এবং ষড়যন্ত্রের অভিযোগে পুরো এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ, উদ্বেগ এবং তীব্র আলোচনা-সমালোচনার ঝড় বইছে।স্থানীয় একাধিক সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসায়ী রানা ও তথাকথিত ডিস ব্যবসায়ী মঙ্গলের মধ্যে ঘনিষ্ঠ আর্থিক লেনদেন ও গোপন সম্পর্ক ছিল। অভিযোগ রয়েছে, মঙ্গলই পরিকল্পিতভাবে রানাকে অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে দেন এবং ধীরে ধীরে তাকে এই অবৈধ চক্রের গভীরে ঠেলে দেন।কিন্তু এখানেই শেষ নয়—অভিযোগের সবচেয়ে বিস্ফোরক অংশ হলো, এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে মঙ্গল রানার স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করে।রানার দাবি, তাকে পুরোপুরি সরিয়ে দিতে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ফাঁদ পেতে পুলিশ দিয়ে গ্রেফতার করানো হয়। ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন,“আমার মাদকের গডফাদার এই মঙ্গল। সে আমাকে টাকা দিয়ে এই পথে নামিয়েছে। এরপর আমার সংসার ভেঙে দিয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনা করে আমাকে পুলিশ দিয়ে ধরিয়ে দিয়েছে—যাতে সে সবকিছু দখলে নিতে পারে।”এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। অনেকেই এটিকে ব্যক্তিগত প্রতিশোধের জঘন্য উদাহরণ হিসেবে দেখছেন, আবার অনেকে বলছেন—এটি মাদক সিন্ডিকেটের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব, যেখানে স্বার্থের দ্বন্দ্বে একে অপরকে ফাঁসানো হচ্ছে।অভিযুক্ত মঙ্গলের পক্ষ থেকে এখনো পর্যন্ত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি, যা রহস্যকে আরও ঘনীভূত করেছে। অন্যদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও এ বিষয়ে নীরব থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।স্থানীয় সচেতন মহল বলছে,এই ঘটনা শুধু একটি পারিবারিক বা ব্যক্তিগত বিরোধ নয়—এর পেছনে রয়েছে সুসংগঠিত মাদক চক্র, প্রভাবশালী ব্যক্তিদের অপকৌশল এবং নৈতিক অবক্ষয়ের ভয়াবহ চিত্র।এলাকাবাসীর জোর দাবি—দ্রুত নিরপেক্ষ ও কঠোর তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করতে হবে এবং যারা এই নোংরা খেলায় জড়িত, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।