দৈনিক সোনার বাংলাদেশ | নিজস্ব প্রতিবেদক’সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা বাজার এলাকার পুটিয়াখালী মৌজার ক-তফসিলভুক্ত সরকারি জমিকে কেন্দ্র করে নতুন করে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বিতর্কিত ওই সরকারি জায়গায় অবৈধভাবে দোকান ঘর নির্মাণ, মোটা অঙ্কের ঘুষ লেনদেন এবং প্রশাসনিকপ্রভাব খাটানোর অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সরকারি ওই জমিতে স্থাপনা নির্মাণকে কেন্দ্র করে অতীতেও একাধিকবার উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছিল। অভিযোগ রয়েছে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সত্য তথ্য প্রকাশ ও প্রতিবাদ করায় পাঁচ জন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং তাদের জেলও খাটতে হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনা দেখা দিলে কিছু সময়ের জন্য নির্মাণকাজ বন্ধ হয়ে যায়।তবে অভিযোগ উঠেছে, পরবর্তীতে ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এবং মোটা অঙ্কের ঘুষের বিনিময়ে পুনরায় ওই সরকারি জায়গায় ঘর নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে প্রশাসনিকভাবে বিষয়টি ‘ম্যানেজ’ করা হয়েছিল। আর সেই সুযোগেই দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দোকানটি আবারও চালুর প্রক্রিয়া শুরু হয়।এ ঘটনায় তালা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খানকে ঘিরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, সরকারি সম্পত্তি রক্ষার দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর এবং এর নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া প্রয়োজন।এদিকে “দৈনিক সোনার বাংলাদেশ” পত্রিকায় বিষয়টি নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসনে ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হয়। সংবাদ প্রকাশের পরপরই সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান হঠাৎ করেই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে গতকাল সরেজমিন অভিযান পরিচালনা করেন এবং অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করেন বলে জানা গেছে।তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন পুটিয়াখালী মৌজার ১৪৯ দাগের ক-তফসিলভুক্ত জমিতে পরিচালিত অভিযানে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নির্মিত স্থাপনা অপসারণ করা হয়। এ সময় সরকারি আদেশ অমান্য করার দায়ে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ১৮৮ ধারায় জরিমানাও করা হয়েছে বলে প্রশাসন সূত্রে জানা যায়।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। কিন্তু সংবাদ প্রকাশের পর হঠাৎ অভিযান পরিচালনা করায় অনেকেই এটিকে ‘চাপের মুখে প্রশাসনিক তৎপরতা’ হিসেবে দেখছেন।এছাড়াও ভূমি অফিসের নাজির রুহুল আমিন আমিনের বিরুদ্ধেও ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে।স্থানীয়দের দাবি, তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এলাকাবাসী বলছেন, সরকারি জমি রক্ষার নামে যদি প্রভাবশালী মহল অর্থের বিনিময়ে সুবিধা পেয়ে থাকে, তাহলে সেটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তারা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।তবে এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) রাহাত খান বা সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।