ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী ও মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত হওয়া ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন গুলো ছিল বির্তকিত। এসব নির্বাচনকে বৈধতা দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারত কখনো প্রত্যক্ষ, আবার কখনো পরোক্ষ ভূমিকা রেখেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করেছেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। তিনি বলেছেন, হাসিনার আমলে অনুষ্ঠিত হওয়া এসব নির্বাচনে ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং-এ ভারতের কোনো সহযোগিতা ছিল না।গত সোমবার নয়াদিল্লিতে সফররত বাংলাদেশি সাংবাদিকদের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ তথ্য জানান। মতবিনিময়কালে তিস্তা পানিবণ্টন, গঙ্গা চুক্তির নবায়ন, ভিসা ব্যবস্থা, জ্বালানি সহযোগিতা, আঞ্চলিক রাজনীতি এবং সাম্প্রতিক বিতর্কিত মন্তব্যসহ নানান বিষয় উঠে আসে।হাসিনার আমলে বাংলাদেশে নির্বাচনে ভারকের সম্পৃক্ততা নাকচ করে দিয়ে বিক্রম মিশ্রিবলেন, ‘অতীতে আমরা বাংলাদেশের সব সরকারের সঙ্গেই কাজ করেছি। কিন্তু ‘ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং’-এ ভারতের কোনো সহযোগিতা ছিল না। আমরা প্রত্যাশা করি, বাংলাদেশের জনগণই তাদের নেতা নির্বাচন করবে। বাংলাদেশে যে সরকারই ক্ষমতায় থাকুক, আমরা তাদের সঙ্গেই কাজ করব।’তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের ভিত্তি হবে পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভারসাম্য। দুই দেশের জনগণের কল্যাণেই এই সম্পর্ককে এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।’অন্তর্বর্তী সরকারের সময় যোগাযোগ কিছুটা শ্লথ ছিল উল্লেখ করে তিনি জানান, ভারত সেই সময়েও যোগাযোগ বজায় রাখার চেষ্টা করেছে। ২০২৪ সালে তার ঢাকা সফর এবং ২০২৫ সালে ব্যাংককে মুহাম্মদ ইউনূস ও নরেন্দ্র মোদীর বৈঠকের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বলেন, ‘বর্তমানে বাংলাদেশের নতুন রাজনৈতিক নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু হয়েছে। দুদেশের মধ্যে বিভিন্ন দ্বিপাক্ষিক প্ল্যাটফর্ম পুনরায় সক্রিয় করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বাণিজ্য বৃদ্ধি, ভিসা সহজীকরণ এবং সম্ভাব্য সেপা চুক্তি নিয়েও আগ্রহ রয়েছে উভয় পক্ষের।’ভিসা স্বাভাবিকীকরণ নিয়ে তিনি জানান, ইতোমধ্যে মেডিকেল ভিসা বাড়ানো হয়েছে এবং অন্যান্য প্রক্রিয়া সহজ করা হয়েছে। শিগগিরই সব ধরনের ভিসা প্রদান স্বাভাবিক করা হবে।