নিজস্ব প্রতিবেদক: খুলনা ও যশোর অঞ্চলে স্বর্ণ পাচার, ভূমি দখল, প্রভাব বিস্তার, রাজস্ব ফাঁকি ও আইনের ফাঁক গলে বারবার পার পেয়ে যাওয়ার অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত মীর শাহিন। বিভিন্ন সময়ে তার বিরুদ্ধে একাধিক সংবাদ প্রকাশিত হলেও দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মীর শাহিনের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিকবার স্বর্ণ পাচারের অভিযোগ ওঠে। যশোরে স্বর্ণসহ আটক হওয়ার পর রহস্যজনকভাবে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। পরে খুলনাতেও একই ধরনের ঘটনায় তার নাম এলেও কার্যকর কোনো আইনি পদক্ষেপ চোখে পড়েনি। এতে করে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে—বারবার অভিযোগ উঠলেও কেন বারবার রক্ষা পাচ্ছেন তিনি?
অভিযোগ রয়েছে, ‘তুবা পাইপ’ নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে গড়ে ওঠা ব্যবসায়িক নেটওয়ার্ক এবং স্বর্ণ ব্যবসার মাধ্যমে বিপুল অর্থবিত্তের মালিক বনে গিয়ে এলাকায় প্রভাব বিস্তার করছেন মীর শাহিন। স্থানীয়দের দাবি, অর্থ ও ক্ষমতার জোরে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই আইনের নাগালের বাইরে অবস্থান করছেন।
স্বর্ণ ব্যবসা কেন্দ্রিক আলোচিত ফারুক হত্যা মামলায়ও তার নাম আলোচনায় আসলেও তদন্তে দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে তার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখল, ঘের দখল, সাংবাদিক হেনস্তা, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মিথ্যা মামলায় জড়ানোর মতো অভিযোগও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।এদিকে ‘তুবা পাইপ’ প্রতিষ্ঠানের কাঁচামাল আমদানিতে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগ উঠলেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর তৎপরতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল। এতসব অভিযোগের পরও ব্যবস্থা না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা বাড়ছে।অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মীর শাহিনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি স্থানীয়দের প্রশ্ন, একের পর এক সংবাদ প্রকাশ, বারবার অভিযোগ ও জনসমালোচনার পরও কেন এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে মীর শাহিন? আর কত অভিযোগ জমা হলে নড়বে প্রশাসন?