নিজস্ব প্রতিবেদক:খুলনা ও যশোর অঞ্চলে স্বর্ণ পাচার, ভূমি দখল, অর্থের দাপট এবং প্রভাব খাটিয়ে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যাওয়ার অভিযোগে আবারও আলোচনায় উঠেছেন কথিত স্বর্ণ ব্যবসায়ী মীর শাহিন। ‘তুবা পাইপ’ নামের প্রতিষ্ঠানের আড়ালে গড়ে ওঠা এই সাম্রাজ্যকে ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পাটকেলঘাটার সাইকেল মিস্ত্রি জামাল উদ্দীনের ছেলে মীর শাহিন অল্প সময়ের মধ্যেই বিপুল সম্পদের মালিক বনে যান। ‘তুবা পাইপ’ ছাড়াও ‘মুসলিম জুয়েলার্স’ নামে স্বর্ণ ব্যবসার প্রতিষ্ঠান গড়ে তুলে তিনি এলাকায় প্রভাব বিস্তার করেন।অভিযোগ রয়েছে, কয়েক বছর আগে যশোরে স্বর্ণসহ আটক হন শাহিন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে মোটা অঙ্কের অর্থ লেনদেনের মাধ্যমে তিনি মুক্তি পান বলে দাবি স্থানীয়দের। এর প্রায় এক বছর পর খুলনাতেও একই ধরনের ঘটনায় তাকে আটক করা হলেও একইভাবে ছাড়া পাওয়ার অভিযোগ ওঠে। বারবার আইনের জাল ছিন্ন করে বেরিয়ে আসায় তার পেছনে শক্তিশালী সিন্ডিকেটের সংশ্লিষ্টতার প্রশ্ন তুলছেন সচেতন মহল।স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, বর্তমানে শাহিন যে বিলাসবহুল গাড়ি ব্যবহার করেন, যার মূল্য কয়েক কোটি টাকা, তা স্বর্ণ পাচারের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে তাদের দৃঢ় সন্দেহ। প্রকাশ্যে চলাফেরা করলেও তার কর্মকাণ্ড নিয়ে ভেতরে ভেতরে ভয় ও ক্ষোভ জমছে এলাকাজুড়ে।এছাড়া, তার বাবা জামাল উদ্দীনের বিরুদ্ধেও দীর্ঘদিন ধরে স্বর্ণপট্টি দখল করে সভাপতি পদে থাকা, অর্থের অপব্যবহার এবং প্রভাব খাটিয়ে সাংবাদিকদের শারীরিক হেনস্তা, গালিগালাজ, মিথ্যা মামলায় জড়ানোর অভিযোগসহ জমিজমা ও ঘের দখলের গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় এক যুগ ধরে তারা ক্ষমতার দাপটে এসব অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন।স্বর্ণ ব্যবসা কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বে আলোচিত ফারুক হত্যা মামলায় মীর শাহিনের নাম আসায় নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী এই মামলার পুনরায় নিরপেক্ষ তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন।এদিকে ‘তুবা পাইপ’ ফ্যাক্টরির কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সরকারি রাজস্ব ফাঁকির অভিযোগও উঠেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।
অভিযোগগুলোর বিষয়ে বক্তব্য জানতে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও মীর শাহিন ফোন রিসিভ করেননি।এলাকাবাসীর প্রশ্ন—আর কতদিন এভাবে প্রভাব, অর্থ ও ক্ষমতার জোরে আইনের চোখে ধুলো দিয়ে যাবেন মীর শাহিন? আর কত অভিযোগ জমা হলে নড়বে প্রশাসন?