নিজস্ব প্রতিবেদক:সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটায় কথিত সুদখোর মুনসুরের বিরুদ্ধে ভয়াবহ শোষণ, জমি জিম্মি ও নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উচ্চ সুদের প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষকে ঋণের ফাঁদে ফেলে তাদের জমি-জমা দখল করে নিচ্ছেন তিনি। এতে করে বহু পরিবার নিঃস্ব হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, শুরুতে সহজ শর্তে ঋণ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে মানুষকে ফাঁদে ফেলা হয়। পরে সুদের বোঝা এতটাই বাড়িয়ে দেওয়া হয় যে ঋণগ্রহীতারা তা পরিশোধে ব্যর্থ হন। এরপর তাদের জমি জিম্মি রেখে বিভিন্নভাবে চাপ প্রয়োগ করা হয় এবং শেষ পর্যন্ত অনেকের সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যায়।অভিযোগ রয়েছে, অনেক ক্ষেত্রে ভুক্তভোগীদের জমি জোরপূর্বক কম মূল্যে বিক্রি করে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাত্র ২২ হাজার টাকার জমি ৭২ লাখ টাকায় বিক্রির ঘটনাও ঘটেছে, যেখানে ভুক্তভোগীরা প্রকৃত মূল্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।এছাড়া জমি জিম্মি রেখে ঘের (মাছের প্রজেক্ট) করে প্রকৃত মালিকদের কোনো অংশ না দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। এতে করে ভুক্তভোগীরা সম্পূর্ণভাবে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন।এ ঘটনায় যাদের নাম ভুক্তভোগী হিসেবে উঠে এসেছে, তাদের মধ্যে রয়েছেন—সিরাজুল ইসলাম, হাফিজ ডাক্তার, মাস্টার শাহিন, নুরুল হক (অভিযুক্তের ভাই), জিয়াউদ্দিন (সাতক্ষীরা), মাসুম (গ্রীন বাংলা পরিবহন মালিক), সোবহান, রায়হানসহ আরও অনেকে। তাদের দাবি, বিভিন্নভাবে প্রতারণা ও চাপ প্রয়োগের মাধ্যমে তাদের সম্পত্তি হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে।একাধিক ভুক্তভোগী জানান, “ঋণ নেওয়ার পর সুদের চাপ সামলাতে না পেরে আমরা জমি হারিয়েছি। এখন আমাদের কোনো উপায় নেই। ঘের করে দিচ্ছে, কিন্তু আমাদের কিছুই দিচ্ছে না।”অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এমন কর্মকাণ্ড চললেও রহস্যজনক কারণে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় অভিযুক্ত ব্যক্তি এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত মুনসুরের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, এ ধরনের সুদখোর চক্রের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একইসঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।