নূরুল হক লিটন :বরগুনার আমতলী উপজেলায় একটি গর্ভবতী গরু চুরি করে জবাই করার ঘটনা ঘটেছে। এতে এলাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।গত ৭ এপ্রিল দিবাগত রাতে উপজেলার আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের চরকগাছিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।এঘটনায় ভুক্তভোগী আবুল হোসেন শনিবার আমতলী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের বাসিন্দা আবুল হোসেন গত ৭ এপ্রিল রাতে তাঁর গর্ভবতী গরুটি গোয়ালঘরে বেঁধে রেখে ঘুমাতে যান। গভীর রাতে গোয়ালঘরে গরু না পেয়ে তিনি চিৎকার শুরু করেন। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় অনেক খোঁজাখুঁজি করেও গরুটির সন্ধান পাওয়া যায়নি। পরদিন চরকগাছিয়াএলাকার মৃধার খালের পাড়ে গরুটির চামড়া, নাড়িভুঁড়ি এবং পেটের বাচ্চা বস্তাবন্দী অবস্থায় ভাসতে দেখা যায়।
ভুক্তভোগী আবুল হোসেনের অভিযোগ, ঘটনার আগে নাসির মাল ও জহিরুল মাল নামের দুই ব্যক্তিকে তাঁর বাড়ির আশপাশে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করতে দেখা গেছে।ঘটনার পর থেকেই তাঁরা আত্মগোপনে রয়েছেন। এলাকাবাসীর দাবি, এই চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গরু চুরি করে জবাই করে মাংস বিক্রি করে আসছে।স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, গত এক মাসে একই গ্রামের কুদ্দুস মৃধা, মজিবর পহলান ও ফারুক খানের গর্ভবতী গরুও একই কায়দায় চুরি হয়েছে।ধারাবাহিকভাবে গরু চুরির ঘটনায় পুরো এলাকায় এখন চোর আতঙ্ক বিরাজ করছে।
আড়পাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য কামরুল ইসলাম খবির বলেন, ‘এটি একটি সংঘবদ্ধ ও প্রভাবশালী চক্র। তারা দীর্ঘদিন ধরে নিরীহ কৃষকদের গরু চুরি করে জবাই করছে। সাধারণ মানুষ ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পায় না। আমরা প্রশাসনের দ্রæত হস্তক্ষেপ চাই।’চুরি হওয়া গরুটির আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় এক লাখ টাকা বলে জানা গেছে।
আমতলী থানার (ওসি)তদন্ত মো. সাইদুল ইসলাম বলেন,‘এবিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করাহচ্ছে।জড়িত ব্যক্তিদের দ্রত আইনের আওতায় আনা হবে।