নিজস্ব প্রতিবেদক:সোনা চোরাচালানের অভিযোগে চাকরি চলে যাওয়ার ঘটনায় আলোচনায় এসেছে তালা উপজেলার দুই ভাই।।
অভিযোগ রয়েছে, বড় ভাই সেনাবাহিনীতে চাকরি হারানোর পর ছোট ভাই গিয়াস উদ্দীন অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদের মাধ্যমে এলাকায় প্রভাবশালী ব্যবসায়ী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছেন। একই সঙ্গে হাজরাকাটি বাজারে তার দোকানে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগও উঠেছে। যা নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, তালা উপজেলার হাজরাকাটি গ্রামের বাসিন্দা শাহাবুদ্দীন সরদার বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে কর্মরত ছিলেন। চাকরির সুবাদে তিনি কয়েকবার জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বিদেশে যান। প্রতিবার মিশন শেষে দেশে ফেরার সময় তিনি স্বর্ণ (সোনা) নিয়ে আসতেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে এই কার্যক্রম চললেও শেষবার দেশে ফেরার সময় তিনি ঢাকা বিমানবন্দরে সোনার চালানসহ ধরা পড়েন।
অভিযোগ অনুযায়ী, বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ বিষয়টি শনাক্ত করার পর তাকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর হাতে তুলে দেয়। পরে সেনাবাহিনীর অভ্যন্তরীণ তদন্ত ও বিচারের মাধ্যমে শাহাবুদ্দীন সরদারকে দোষী সাব্যস্ত করেন। এরপর তাকে দীর্ঘদিন সামরিক হেফাজতে রাখা হয় এবং শেষ পর্যন্ত তার চাকরি চলে যায়।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শাহাবুদ্দীনের বিদেশ থেকে আনা সোনার চালান দেশে আনার পর তা বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে ছিলেন তার ছোট ভাই গিয়াস উদ্দীন। সে সময় গিয়াস উদ্দীন তালা এলজিইডি অফিসে কর্মরত ছিলেন এবং চাকরির আড়ালে বড় ভাইয়ের সোনা বিক্রির দায়িত্ব পালন করতেন বলে জানাগেছে।
এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “হঠাৎ করেই গিয়াস উদ্দীনের জীবনযাত্রায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। আগে সাধারণ জীবনযাপন করলেও অল্প সময়ের মধ্যে তিনি বিপুল সম্পদের মালিক হয়ে ওঠেন। খুলনা বিভাগীয় শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় জমি, দোকান ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করেন।”
তারা আরও জানান, বর্তমানে তালা উপজেলার হাজরাকাটি বাজারে গিয়াস উদ্দীনের একটি বড় দোকান রয়েছে। এই দোকানে তেলসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করা হয়। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে তেলের সংকট দেখিয়ে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এতে সাধারণ ক্রেতারা ক্ষুব্ধ হয়ে পড়েছেন।
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন, “বাজারে তেলের সংকট দেখানো হচ্ছে। কিন্তু নির্দিষ্ট কিছু ক্রেতার কাছে বেশি দামে তেল বিক্রি করা হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষ প্রতারিত হচ্ছে।”
এদিকে গিয়াস উদ্দীনের সম্পদের উৎস নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির চাকরির আড়ালে অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ দিয়ে তিনি সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। যদিও এ বিষয়ে এখনো কোনো সরকারি তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।
তালা উপজেলার সচেতন মহলের মতে, যদি সোনা চোরাচালান ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তা গভীরভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগও খতিয়ে দেখা দরকার।
একজন সমাজকর্মী বলেন, “যদি কোনো ব্যক্তি অবৈধভাবে সম্পদ অর্জন করে এবং বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে ঠকায়, তাহলে প্রশাসনের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।”
এ বিষয়ে অভিযুক্ত গিয়াস উদ্দীনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে পরবর্তীতে তা প্রকাশ করা হবে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
স্থানীয়রা আশা করছেন, সোনা চোরাচালান, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।