নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের জেলা যুগ্ম আহ্বায়ক পরিচয়ধারী মামুন হাউলাদারের বিরুদ্ধে একের পর এক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি বিভিন্ন সরকারি কর্মকর্তা ও আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে চাঁদা দাবি ও আদায় করতেন। এসব কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তার এমন কর্মকাণ্ডে ক্ষুব্ধ হয়ে কিছু লোকজন তাকে গণধোলাই দেয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এলাকাবাসীর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম, চাঁদাবাজি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থাকলেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, মামুন হাউলাদার অতীতে ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি খুলনায় হলেও বর্তমানে তিনি সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার মহল্লাপাড়া এলাকায় শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করছেন।আরও জানা যায়, শ্বশুর-শাশুড়ির ওপর নির্যাতন এবং তাদের ঘরবাড়ি ও জায়গা-জমি দখলের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বিএনপি নেতা অভিযোগ করে বলেন, মামুন হাউলাদারের নানা ধরনের অত্যাচার ও প্রভাব বিস্তারের কারণে তারা দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছেন। তারা বলেন, “তার কর্মকাণ্ডে আমরা অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছি। এলাকায় নিজের প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন সময় মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, ভয়ভীতি দেখানো এবং বিভিন্ন অজুহাতে টাকা দাবি করার মতো অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কারণে সাধারণ মানুষও তার আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে। তবে বিভিন্ন কারণে অনেকেই প্রকাশ্যে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না।”তারা আরও বলেন, এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা দরকার।এ বিষয়ে তালা থানার ওসির কাছে জানতে চাইলে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেন, “এ বিষয়ে পরে কথা বলছি।”এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল ঘটনাটি দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, অভিযোগগুলো সত্য হলে এর সুষ্ঠু বিচার হওয়া প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে।