নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) এক নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও সরকারি সম্পদের অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় নানা অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল অবৈধ সম্পদের মালিক হয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্র ও স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের সাতক্ষীরা পওর বিভাগ–১ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম সরকারি সুযোগ-সুবিধা ব্যবহার করে ব্যক্তিগত জীবনযাপন বিলাসবহুল করে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে তিনি কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
জানা গেছে, তিনি গত বছরের ১২ নভেম্বর সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে নির্বাহী প্রকৌশলী হিসেবে যোগদান করেন। তার পরিবার খুলনা শহরের গল্লামারী এলাকায় বসবাস করেন। অভিযোগ রয়েছে, যোগদানের পর থেকেই তিনি দপ্তরের বরাদ্দকৃত বিলাসবহুল সরকারি গাড়ি ব্যবহার করে প্রতিদিন খুলনা থেকে সাতক্ষীরা অফিসে আসা-যাওয়া করছেন।
সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী, দাপ্তরিক কাজে ব্যবহারের জন্য বরাদ্দকৃত গাড়ি ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, ওই কর্মকর্তা তার নামে বরাদ্দকৃত টয়োটা ল্যান্ডক্রুজার (ভোলা ঘ–০০০৫) গাড়িটি নিয়মিত ব্যক্তিগত যাতায়াতের কাজে ব্যবহার করছেন।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সাতক্ষীরা থেকে খুলনার দূরত্ব প্রায় ৫৪ কিলোমিটার। প্রতিদিন যাতায়াতে প্রায় ১০৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতে হয়। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গাড়িটি ডিজেলচালিত হওয়ায় প্রতিদিন যাতায়াতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ জ্বালানি খরচ হচ্ছে।
হিসাব অনুযায়ী, সাতক্ষীরা থেকে খুলনা যাতায়াতে প্রায় ২৮ লিটার ডিজেল প্রয়োজন হয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন অফিস করলে মাসে প্রায় ২০ দিন যাতায়াত করতে হয়। সেই হিসাবে শুধু যাতায়াতেই মাসে প্রায় ৫৬০ লিটার ডিজেল ব্যয় হয়। বর্তমান বাজারদর অনুযায়ী প্রতি লিটার ডিজেলের মূল্য প্রায় ১০৪ টাকা হলে মাসে জ্বালানি বাবদ ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ৫৮ হাজার ২৪০ টাকা, যা সরকারি তহবিল থেকেই পরিশোধ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা জেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি ডাঃ আবু কালাম বাবলা বলেন, সরকারি নির্দেশনা উপেক্ষা করে ব্যক্তিগত কাজে সরকারি গাড়ি ব্যবহার করা গুরুতর অনিয়ম। এটি দুর্নীতির শামিল এবং এ ধরনের কর্মকাণ্ড কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
অভিযোগ রয়েছে, শুধু সরকারি গাড়ির অপব্যবহারই নয়—দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রকল্প ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে অনিয়মের মাধ্যমে তিনি বিপুল অর্থের মালিক হয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, তার সম্পদের পরিমাণ তদন্ত করলে দুর্নীতির আরও অনেক চিত্র সামনে আসতে পারে।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আশরাফুল আলম বলেন, সরকারি কাজের প্রয়োজনে গাড়িটি ব্যবহার করা হয়। খুলনায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলীর দপ্তরে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজে যেতে হয়। পাশাপাশি খুলনায় তার পরিবার বসবাস করায় সেখানেও যাতায়াত করতে হয়। তিনি দাবি করেন, সরকারি বিধিমালা মেনেই গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছে।তবে স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, সরকারি সম্পদের অপব্যবহার এবং দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত তদন্ত করা প্রয়োজন। তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিও জানিয়েছেন তারা।