নিজস্ব প্রতিবেদক:সাতক্ষীরার আলোচিত ভূমি নায়েব আশরাফুউজ্জামানের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক অভিযোগ ওঠার পরও কঠোর শাস্তির বদলে শুধু বদলি করার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি, দুর্নীতির স্পষ্ট অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও শুধু বদলি করা কোনোভাবেই অপরাধের যথাযথ শাস্তি হতে পারে না।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন অনিয়ম, ঘুষ গ্রহণ এবং অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকার সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে ওই ভূমি নায়েবের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নামজারি, খাজনা দাখিলা, খাসজমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন কাজে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা আদায় করা হতো। এমনকি জমি বন্দোবস্তের নামে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে বলে জানা যায়। তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন—দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগে একজন সরকারি কর্মচারীর শাস্তি কি শুধুই বদলি হতে পারে?সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, বদলি কোনো শাস্তি নয়। বরং অনেক সময় এটি দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের রক্ষার একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহৃত হয়। কারণ একজন কর্মকর্তাকে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে সরিয়ে দিলে তিনি নতুন জায়গায় গিয়ে আবার একই ধরনের অনিয়ম করার সুযোগ পান।স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মতে, যদি দুর্নীতির অভিযোগ সত্য হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত, দুর্নীতি দমন কমিশনের মাধ্যমে অনুসন্ধান এবং প্রয়োজন হলে চাকরি থেকে বহিষ্কারের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত। পাশাপাশি অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ রাষ্ট্রীয় কোষাগারে বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অনেকেই মনে করছেন, দুর্নীতির অভিযোগে অভিযুক্ত কোনো কর্মকর্তাকে শুধু বদলি করে দায় শেষ করলে সাধারণ মানুষের কাছে প্রশাসনের জবাবদিহিতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থানও দুর্বল হয়ে যায়।এদিকে ভুক্তভোগী ও স্থানীয়রা দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ঘটনার সত্যতা যাচাই করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান না নিলে এমন অনিয়ম ভবিষ্যতেও চলতেই থাকবে এবং সাধারণ মানুষ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে।