* ভূমি অফিস থেকে মাসিক উৎকোচ।
* অভিযুক্তদের শাস্তি না দিয়ে বদলি।
* আর্থিক লেনদেন নিয়ন্ত্রণ করে সিএ জিয়াউর।
নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরার ভূমি অফিসগুলোর দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা কর্মাচারীদের শেষ আশ্রয়স্থল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মইনুল ইসলাম মইন। জেলাজুড়ে দুর্নীতিবাজ ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের থেকে মাসিক মাসহারা নেন তিনি। যার ফলে দুর্নীতিবাজ ভূমি সহকারী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ পেলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করে না।জেলাজুড়ে ইউনিয়ন ও উপজেলা ভূমি অফিসগুলো থেকে মাসহারা টাকার লেনদেন করেন সরাসরি মইনের সিএ জিয়াউর। নায়েবদের বদলি, নায়েবদের অভিযোগ ডিসমিস এসকল সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করে৷ সরাসরি রাজস্বের সিএ জিয়াউর। বেপরোয়া জিয়াউর নিজেকে ডিসি মনে করে মানুষের সাথে রুক্ষ আচারণ করে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, দীর্ঘ বছর ধরে সাতক্ষীরায় চাকরির সুবাদে মইন নিজেই নিয়ন্ত্রণ করে সবকিছু। যখন তিনি শিক্ষা শাখার দায়িত্বে ছিলেন তখন তার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ রয়েছে।পরবর্তীতে ঘুষের অভয়ারণ্যে রাজস্বশাখার বদলি হয়। রাজস্ব শাখা দায়িত্ব পাওয়ার পর জেলা জুড়ে ভূমি অফিসগুলোতে ঘুষ লেনদেন বেড়ে যায়। মইন তার সিএ জিয়াউর মাধ্যমে ভূমি অফিসগুলো মাসিক মাসহারা দাবি করেন। বিনিময়ে ঘুষ নিলেও ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না বলে আশ্বাস দেন। এডিসি মইনের সরাসরি হস্তক্ষেপে ভূমি অফিসগুলো হয়ে উঠেছে ঘুষ লেনদেনের কারখানা। একের পর এক প্রকাশ্যে আসে ঘুষ লেনদেন। গণমাধ্যমে এসব ভিডিও প্রকাশিত হলে রাতারাতি টাকার বিনিময়ে শাস্তি না দিয়ে বদলি করা হচ্ছে। ঘুষ লেনদেনে ফেঁসেছে তালা নগরঘাটার ভূমি সহকারী কর্মকর্তা আব্দুল মুকিত, খেশরার সহকারী কর্মকর্তা শিহাব উদ্দিন। তাদের নামমাত্র শাস্তি দিয়ে পুন: বহাল করা হয়েছে।
গত কয়েকদিন আগে শ্যামনগর আটুলিয়ার নায়েব আশরাফুউজ্জামান ঘুষের বিনিময়ে অবৈধ সম্পদ গড়েছে বিপুল পরিমাণ বিভিন্ন গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশিত হলেও ব্যবস্থা নেয়নি এডিসি মইন। পরবর্তীতে রাতারাতি কয়েক লাখ টাকা টাকার বিনিময়ে দুর্নীতিবাজ নায়েব আশরাফুউজ্জামানকে শাস্তি না দিয়ে কলারেয়া জালালাবাদে বদলি করা হয়।
সম্প্রতি বহুল আলোচিত সাতক্ষীরা শ্যামনগর উপজেলা ভূৃমি অফিসের সহকারী সরোয়ার হোসেনের প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেন প্রকাশ হয়েছে গণমাধ্যমে। অফিসে বসে প্রকাশ ঘুষ লেনদেনের পরও বহাল তবিয়তে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে দুর্নীতিবাজ কর্মচারী সরোয়ার। যেখানে প্রকাশ্য ঘুষ লেনদেনে আলোচনা সমালোচনার ঝড় উঠলেও চুপ রয়েছে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসন। জেলা প্রশাসনের নিরবতায় ভিন্ন ইঙ্গিত বহন করছে।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন উপজেলা ভূমি অফিসে চাকরিরত কর্মকর্তা বলেন, ভূমি অফিসগুলোতে একের কর ঘুষ ভিডিও সংবাদ প্রকাশের পর আমরা বিপাকে পড়েছি। সাধারণ মানুষের ধারণা ভূমি অফিসে যারা চাকরি করে তারা সব ঘুষখোর। মূলত এই ভূমি অফিসে ঘুষখোরদের প্রশয় দেয় রাজস্বের সিএ জিয়াউর। সিএ জিয়াউর টাকার বিনিময়ে দুর্নীতিবাজদের বাঁচিয়ে নেন এডিসি মইন থেকে।
ভূমি অফিসে হয়রানিপ্রাপ্ত একজন ভুক্তভোগী বলেন, টাকা ছাড়া কোন কাজ হয়না ভূমি অফিসে। ভূমি অফিসগুলোতে টাকার খেলা চলে। নামজারি সরকারি খাজ জমি ইজারা খাজনা দাখিলা নেওয়া হয় টাকা।
প্রকাশ ঘুষ গ্রহনেী পরও ডিসি অফিস কেন পদক্ষেপ নেয় না তাহলে এসকল দুর্নীতিবাজরা মাসিক মাসহরা নেয়।ভূমি অফিসের কর্মকর্তা কর্মচারীদের ঘুষ সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণকারী সিএ জিয়াউর বলেন,
অভিযোগের বিষয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক( রাজস্ব) মইনূল ইসলামকে একাধিকবার তার সরকারি নাম্বারে ফোন দিলে তিনি রিসিভ করেন নি।তিনি কোন সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে চান না জানিয়ে দেন সিএ জিয়াউরের মাধ্যমে।