নিজস্ব প্রতিবেদক,:সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার ৯ নং বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবিদ হাসান-এর বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, অর্থ আত্মসাৎ এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় রাজনীতিতে ভোল পাল্টানো এবং সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণার ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আবিদ হাসান এক সময় বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। তবে ক্ষমতার পটপরিবর্তনের সাথে সাথে তিনি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথেও সখ্যতা গড়ে তোলেন। সাবেক এমপি এস এম আতাউল হক দোলন এবং তার ভাই পলাশের সাথে আবিদ হাসানের ঘনিষ্ঠতার ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, সাবেক এমপির বাড়িতে দাওয়াত খাওয়া এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তিনি এলাকায় একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।বর্তমানে তার ভাই আবুল কালাম বুড়িগোয়ালিনী ইউনিয়ন যুবদলের পদ-পদবিতে থাকায় সেই প্রভাব ব্যবহার করে আবিদ হাসান আবারও নিজের অবস্থান শক্ত করার চেষ্টা করছেন বলে স্থানীয়দের দাবি।আবিদ হাসানের বিরুদ্ধে ‘খাস কাটা ক্লাব’-এর টাকা আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। ক্লাবের উন্নয়ন ও স্থানীয়দের কল্যাণে বরাদ্দকৃত অর্থ তিনি নিজের ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার করেছেন বলে সাধারণ সদস্যরা অভিযোগ করেছেন। এ বিষয়ে ক্লাবের পক্ষ থেকে তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে।সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে আবিদ হাসানের ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিএনপির মতো একটি ঐতিহ্যবাহী দলের নাম ভাঙিয়ে এবং ইউপি সদস্যের প্রভাব কাজে লাগিয়ে তিনি একাধিক নারীর সাথে পরকীয়ায় লিপ্ত।সম্প্রতি ‘দুরন্ত ক্রাইম নিউজ’-এর হাতে একটি অডিও ক্লিপ এসেছে, যেখানে তাকে আপত্তিকর আলাপচারিতা করতে শোনা গেছে। অভিযোগ রয়েছে, অসহায় ও দরিদ্র নারীদের টাকা-পয়সার প্রলোভন দেখিয়ে তিনি দিনের পর দিন অসামাজিক কার্যকলাপে বাধ্য করছেন।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানানআবিদ হাসান যখন যে দল ক্ষমতায় আসে, সেই দলের নেতা বনে যান। মেম্বার হওয়ার পর তিনি ধরাকে সরা জ্ঞান করছেন। নারীদের সাথে তার অশোভন আচরণ এবং ক্লাবের টাকা চুরির বিচার হওয়া উচিত।”
এই বিষয়ে ইউপি সদস্য আবিদ হাসানের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।