নিজস্ব প্রতিবেদক,
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা। এক দশক আগেও যেখানে সাঈদ চৌধুরী নামে এক যুবক নারিকেলের ব্যবসা আর দিনমজুরির আয়ে সংসার চালাতেন, আজ সেখানে তিনি কয়েকশ কোটি টাকার মালিক। সাধারণ এক ব্যবসায়ী থেকে রড-সিমেন্টের বড় ডিলার এবং প্রভাবশালী কোটিপতি হওয়ার এই উল্কার গতির নেপথ্যে উঠে এসেছে ভয়াবহ ব্যাংক জালিয়াতি, ভুয়া নথিপত্র আর অর্থ আত্মসাতের এক অন্ধকার অধ্যায়।অনুসন্ধানে জানা গেছে, সাঈদ চৌধুরীর সম্পদ বাড়ার মূল চাবিকাঠি ছিল ‘ব্যাংক ঋণ’। তবে এই ঋণ নেওয়ার প্রক্রিয়াটি ছিল সম্পূর্ণ জালিয়াতিপূর্ণ। স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীদের দাবি, তিনি একাধিক দুর্বল ব্যাংককে টার্গেট করে নিজের এবং কাগুজে প্রতিষ্ঠানের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। এক্ষেত্রে তিনি ব্যবহার করেছেন:
জাল জামানত একই জমি একাধিক ব্যাংকে বন্ধক দেওয়া এবং ভুয়া দলিল তৈরি।
কাগুজে ব্যবসা অস্তিত্বহীন প্রতিষ্ঠানের নামে এলসি (LC) খোলা ও ব্যবসায়িক ঋণ গ্রহণ।
রাজনৈতিক প্রভাব বিগত স্বৈরাচারী শাসনামলের প্রভাবশালী মহলের নাম ভাঙিয়ে ব্যাংক কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি।
বর্তমানে এই ঋণের একটি বিশাল অংশ ‘খেলাপি’ (Defaulted) হিসেবে রয়েছে, যা দেশের ব্যাংকিং খাতের জন্য চরম ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।অভিযোগ রয়েছে, সাঈদ চৌধুরী শুধু ব্যাংক ঠকিয়েই ক্ষান্ত হননি, বরং জাল কাগজপত্র তৈরি করে সরকারি খাস জমি ও সাধারণ মানুষের পৈতৃক সম্পত্তি দখলের এক রাজত্ব কায়েম করেছেন। এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, তিনি একটি সিন্ডিকেট পরিচালনা করেন যারা মূলত কালো টাকা সাদা করা এবং জমি কেনা-বেচার মাধ্যমে অবৈধ অর্থ পাচারে সহায়তা করে। ক্ষমতার দাপটে এতদিন সাধারণ মানুষ টু শব্দ করতে না পারলেও, এখন তারা ফুঁসে উঠেছেন।
সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে কেবল আর্থিক অনিয়মই নয়, বরং পরকীয়া ও একাধিক অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগও জোরালো। তার এসব ব্যক্তিগত বিতর্কের জেরে স্থানীয়ভাবে কয়েকবার সালিশ-বৈঠক হলেও অর্থের জোরে তিনি বারবার পার পেয়ে গেছেন বলে দাবি গ্রামবাসীর। এসব ঘটনায় এলাকায় চরম সামাজিক অস্থিরতা বিরাজ করছে।দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা এই অনিয়ম নিয়ে এখন জনমনে প্রশ্ন—সাঈদ চৌধুরীর খুঁটির জোর কোথায়? এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিটের (BFIU) মাধ্যমে তার সম্পদের উৎস এবং ব্যাংক হিসাবের ফরেনসিক তদন্ত করা হোক।
এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাঈদ চৌধুরীর ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হয়। তবে প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাকে পাওয়া যায়নি অথবা তিনি গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন।
সচেতন মহলের দাবি “রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষা এবং ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে সাঈদ চৌধুরীর মতো ‘আঙুল ফুলে কলাগাছ’ হওয়া ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনা এখন সময়ের দাবি।”
এটা আমাদের দ্বিতীয় পর্ব