সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা এলাকার এক সময়ের সাধারণ নাইকেল ব্যবসায়ী সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভয়াবহ আর্থিক অনিয়ম, জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। কুমিরা ইউনিয়নের দাদপুর গ্রামের বাসিন্দা সাঈদ চৌধুরী অল্প সময়ের ব্যবধানে কোটি টাকার মালিক বনে যাওয়ায় এলাকায় ব্যাপক প্রশ্ন ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও অভিযোগকারীদের দাবি, স্বৈরাচারী শাসনামলে প্রভাবশালী মহলের দোসর হিসেবে কাজ করে সাঈদ চৌধুরী জাল জালিয়াতির মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন। অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ লেনদেন ও কাগুজে ব্যবসার আড়ালে তিনি কালো টাকা সাদা করার অপচেষ্টা চালিয়েছেন।
সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হচ্ছে—তিনি একাধিক বিপন্ন ও ঝুঁকিপূর্ণ ব্যাংক থেকে ভুয়া কাগজপত্র, জাল জামানত ও প্রভাব খাটিয়ে কোটি কোটি টাকা ঋণ গ্রহণ করেছেন, যার বড় একটি অংশ আজও অনাদায়ী রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্যমতে, এসব ঋণের অর্থ প্রকৃত ব্যবসায় ব্যবহার না করে ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাস ও অবৈধ সম্পদ গড়তে ব্যয় করা হয়েছে।এছাড়াও তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত জীবন ঘিরে নানা বিতর্কিত অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে আলোচনা রয়েছে, পরকীয়াজনিত একাধিক ঘটনায় তার নাম জড়িয়ে পড়েছে, যা সামাজিক অস্থিরতা ও বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে।আরও অভিযোগ উঠেছে, সাঈদ চৌধুরী জাল দলিল ও ভুয়া কাগজপত্র ব্যবহার করে সরকারি খাস জমিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জমির ওপর অবৈধভাবে নজর বা দখল নেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এতে করে সরকারি সম্পদ বেহাত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।স্থানীয়দের দাবি, এসব অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, জালিয়াতি ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের প্রকৃত চিত্র উদঘাটন করা জরুরি। তারা দুর্নীতি দমন কমিশন, ব্যাংক কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সাঈদ চৌধুরীর কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে