রিপন হোসাইন সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি :
সাতক্ষীরার আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে দীর্ঘদিন ধরে সীমাহীন অনিয়ম, দুর্নীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন অফিসের নকল নবীশ নির্মল সরকার ও দায়িত্বপ্রাপ্ত সাব-রেজিস্টার (বড়বাবু) জব্বার। তাদের প্রভাব ও প্রত্যক্ষ-পরোক্ষ মদদে অফিসটি কার্যত একটি দালালচক্রের নিয়ন্ত্রণে চলে গেছে বলে অভিযোগ করছেন ভুক্তভোগীরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নকল নবীশ নির্মল সরকার দীর্ঘদিন ধরে দলিল লেখক, দালাল ও অসাধু কর্মচারীদের নিয়ে একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই সিন্ডিকেটের কার্যক্রম সাব-রেজিস্টার জব্বার অবগত থাকা সত্ত্বেও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয় না; বরং নীরব ভূমিকার মাধ্যমে অনিয়মকে প্রশ্রয় দেওয়া হচ্ছে। ফলে ঘুষ ছাড়া কোনো ধরনের দলিল রেজিস্ট্রি কার্যক্রম সম্পন্ন হয় না বলে ভুক্তভোগীদের দাবি।
ভুক্তভোগীরা জানান, সরকারি নির্ধারিত ফি-এর বাইরে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে নানা অজুহাতে দলিল আটকে রাখা হয়। সাফ কবলা দলিল, দানপত্র, হেবাবিল, এওয়াজ বদল, বণ্টননামা, না-দাবি দলিলসহ সব ধরনের দলিল রেজিস্ট্রিতে নির্দিষ্ট হারে ঘুষ দিতে বাধ্য করা হয়। দলিলের মূল্য ও জটিলতার ওপর ভিত্তি করে এই ঘুষের পরিমাণ কয়েক হাজার টাকা থেকে শুরু করে লক্ষাধিক টাকায় পৌঁছায়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, জমির সামান্য ত্রুটি দেখিয়ে কিংবা দাতা-গ্রহীতাকে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হয়। বিশেষ করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জমি রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে নানা কৌশলে বড় অঙ্কের ঘুষ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এতে সাধারণ মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন এবং সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে।
সরকারি রাজস্ব ফাঁকির ক্ষেত্রেও নকল নবীশ নির্মল সরকার ও সাব-রেজিস্টার জব্বারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ বলে অভিযোগ রয়েছে। জমি প্লট আকারে ক্রয়-বিক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত রাজস্ব প্রদানের বিধান থাকলেও তা এড়িয়ে যেতে দাতা ও গ্রহীতাদের প্রভাবিত করা হয়। এতে ব্যক্তিগতভাবে একটি চক্র লাভবান হলেও রাষ্ট্র বঞ্চিত হচ্ছে বিপুল রাজস্ব থেকে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক জমি ব্যবসায়ী জানান, অতিরিক্ত রাজস্ব ব্যাংকের মাধ্যমে জমা দিতে চাইলে তা বাতিল করে নগদ অর্থ গ্রহণে বাধ্য করা হয়। এমন ঘটনা নিয়মিত ঘটছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে আশাশুনি সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ মানুষ চরমভাবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন। সরকারি একটি গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নকল নবীশ নির্মল সরকার ও সাব-রেজিস্টার (বড়বাবু) জব্বারের বিরুদ্ধে উত্থাপিত এসব গুরুতর অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন আশাশুনিবাসী।