সাতক্ষীরা জেলা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরা জেলার আশাশুনি উপজেলায় আওয়ামী লীগ সমর্থক দুই প্রভাবশালী নেতার বিএনপিতে যোগদানকে কেন্দ্র করে স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র আলোচনা ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন দরগাহপুর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সমর্থক সাবেক চেয়ারম্যান এস.এ.এম জমির উদ্দিন গাজী এবং খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি হিসেবে পরিচিত আলহাজ্ব মো. ওয়াহিদুল ইসলাম প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাত ৯টার দিকে এস.এ.এম জমির উদ্দিন গাজী ফুলের তোড়া দিয়ে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে বিএনপিতে যোগদান করেন। এ সময় আশাশুনি উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক আহ্বায়ক চেয়ারম্যান রুহুল কুদ্দুস এবং সাবেক সদস্য সচিব মশিউর হুদা তুহিনসহ স্থানীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতা উপস্থিত ছিলেন।
এদিকে একই ধারাবাহিকতায় আশাশুনি উপজেলার খাজরা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মো. (ওয়াহিদুল ইসলাম)-এর নামও বিএনপিতে যোগদান প্রসঙ্গে আলোচনায় এসেছে, যা স্থানীয় বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীদের মধ্যে আরও অসন্তোষ ও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
এই দুই নেতার যোগদানকে কেন্দ্র করে বিএনপির একাংশের নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে ক্ষোভ ও আপত্তি তুলেছেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকা এবং স্বৈরাচারী শাসনের দোসর হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিদের বিএনপিতে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা দলীয় আদর্শ, আন্দোলন ও ত্যাগী নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির একাধিক নেতা বলেন,যারা স্বৈরাচারী শাসনামলে আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করেছে এবং জনগণের ভোটাধিকার হরণে নীরব ভূমিকা রেখেছে—তাদের বিএনপিতে জায়গা দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এ ধরনের সিদ্ধান্ত দল ও আন্দোলনের ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে।”
স্থানীয় বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরাও ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বিতর্কিত ও আওয়ামী লীগপন্থী ব্যক্তিদের দলে টানার মাধ্যমে বিএনপির দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রাম ও ত্যাগের ইতিহাস প্রশ্নবিদ্ধ করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ ধরনের বিতর্কিত যোগদান বিএনপির অভ্যন্তরীণ ঐক্য ও সাংগঠনিক স্থিতিশীলতায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।