আল আমিন সরদার, সাতক্ষীরাঃ
ডাক্তার নাই, ঔষধ নাই, এক্সরে প্লেট নেই, টেকনিশিয়ান নেই, আল্ট্রাসনোগ্রাম কার্যক্রম বন্ধ, লোকবল সংকট। হাসপাতালের অধিকাংশ কর্মচারীরা স্বপদের কর্মে নিয়োজিত নয়! মালী গাড়ির ড্রাইভার! নৈশ্য প্রহরী জরুরি বিভাগে চিকিৎসকের দায়িত্ব পালন করছেন, অফিস টাইমে চায়ের দোকানে আড্ডা দিচ্ছেন কর্মচারীরা , কেউবা পারিবারিক সওদা নিয়ে ব্যস্ত। এমনই অনিয়ম এখন নিয়মে পরিণত হয়েছে, তালা হাসপাতালে।হাসপাতাল প্রধান নিয়মিত অফিসে না করায় একদিকে অনিয়ম ভর করেছে হাসপাতালে, অপরদিকে উপজেলা সাড়ে ৪ লক্ষ মানুষ বঞ্চিত হচ্ছে চিকিৎসা সেবা থেকে। সরেজমিনে হাসপাতাল এলাকায় অনেকের সাথে কথা হয়।তালার চর গ্রামের হায়দার আলী তার অসুস্থ্য স্ত্রী কে নিয়ে তালা হাসপাতালের আউট ডোরে ২ ঘন্টা অপেক্ষা করে ডাক্তারের দেখা না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। সুজনসাহা গ্রামের আব্দুল মাজেদ হাতকেটে যাওয়া এক রোগী কে নিয়ে এসেছেন , কিন্তু জরুরি বিভাগে কোন ডাক্তার নাই। রহিমা বাদ গ্রামের আরিজুল সরদার তার ৫ বছরের শিশু কন্যা মুমুর্ষ মরিয়াম কে জরুরি অক্সিজেন দিতে হবে, কিন্তু নার্সদের অবহেলায় আধা ঘন্টা দেরীতে দেওয়া হয় অক্সিজেন। আরও অনেকেই জানান , রোগী ও তার পরিবারের লোকজন ভীত তটস্থ থাকেন নার্স,আয়া, সুইপারদের দাপটে। হাসপাতাল প্রধান ডাঃ রাজিব সরদার নিয়মিত অফিসে আসেন না, তার জন্য বরাদ্দ আবাসিক কোয়াটারে সার্বক্ষণিক থাকার কথা থাকলেও তিনি অন্য জেলায় বসবাস করেন। তার বিরুদ্ধে হাসপাতাল অভ্যন্তরেই নিয়মিত মাদক সেবনের অভিযোগ করেছেন অনেকেই! নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একজন কর্মচারী জানান, ডাঃ রাজিব হাসপাতালের অভ্যন্তরে মাদকসেবন করে , অসময়ে আসেন, আবার অসময়ে চলে যান।গত ২ সপ্তাহ যাবৎ সরেজমিনে হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ৫০ শয্যার এই হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা শতাধিক। জরুরি অবস্থায় ডাক্তার, নার্সদের ডাকলেও পাওয়া যায় না, এমন অভিযোগ ভর্তি রোগীদের। গত প্রায় দুই সপ্তাহ যাবৎ তালা হাসপাতালে ঘুরে দেখা গেছে, শুধু ১৭ আগষ্ট, সাতক্ষীরা সিভিল সার্জনের আগমনের খবরে সব ডাঃ উপস্থিত হয়েছেন। ১৬ আগষ্ট সন্ধ্যা থেকে জরুরি বিভাগে ডাক্তার না থাকায় হট্টগোল হয়েছে, ১৪ আগষ্ট বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মাত্র একজন আউট ডোর, জরুরি বিভাগ সবই সামলাতে দেখা গেছে। ১৩ ও ১২ আগষ্ট আর এম ও ডাঃ খালিদ হাসান নয়ন একাই হাসপাতালের রোগী সামলাচ্ছেন। একই চিত্র প্রায় প্রতিদিনই অধিকাংশ ডাঃ অনুপস্থিত, খালি চেয়ার, এসি, ফ্যান চলছে টিএইসই রং রুমে, পিওন বলছে, ফিল্ডে গেছেন। কিন্তু তিনি আদৌও আসেননি। এ ব্যাপারে তালা হাসপাতালের স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ রাজিব সরদার বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলের ডিসিপ্লিন ব্রেক, এখনও রয়ে গেছে, তিনি মাদকাসক্তের বিষয়টি এড়িয়ে গিয়ে বলেন, এসব কে বলে, আপনাদের?সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন আব্দুস সালাম জানান, যে কোন দুর্নীতি, অনিয়ম পেলে নিউজ করেন, আমার কাছে দুর্নীতি বিষয়ে কোনো ছাড় নাই, অভিযোগ দিলে ব্যবস্থা নিবো।