জিএম.হিরোন তারেক ভ্রাম্যমান প্রতিনিধি খুলনা
যশোর-৬ (কেশবপুর) সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্নির্ধারণ নিয়ে বিতর্ক দেখা দিয়েছে। কেশবপুর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন নিয়ে পার্শ্ববর্তী অভয়নগর ও মনিরামপুর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নের সঙ্গে যুক্ত করে একটি সংসদীয় আসন গঠনের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন কেশবপুরের সাধারণ জনগণ।
‘কেশবপুর উন্নয়ন ফোরাম’-এর আহ্বায়ক ও সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো: আবু দাউদ নিজামী সম্প্রতি প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর একটি লিখিত আবেদনে এই প্রস্তাব বাতিলের দাবি জানান।জানা যায়, বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির সভাপতি সুকৃতি কুমার মন্ডল নির্বাচন কমিশনে একটি আবেদন জমা দেন। সেই আবেদনে তিনি যশোর-৬ আসনটি পুনর্গঠনের প্রস্তাব করেন। তার প্রস্তাবে কেশবপুর উপজেলার সুফলাকাঠী, পাঁজিয়া ও গৌরীঘোনা ইউনিয়নকে অভয়নগর উপজেলা এবং মনিরামপুর উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের (ঢাকুরিয়া, হরিদাসকাঠী, কুলটিয়া, দূর্বাডাঙ্গা, নেহালপুর ও মনোহরপুর) সঙ্গে একীভূত করে নতুন সংসদীয় আসন গঠনের কথা বলা হয়েছে। প্রস্তাবে যুক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়, এই অঞ্চলটি ভৌগোলিকভাবে অখণ্ড, সাংস্কৃতিকভাবে সাদৃশ্যপূর্ণ এবং নওয়াপাড়া শিল্পাঞ্চল কেন্দ্রিক হওয়ায় একক এমপির অধীনে থাকলে ভবদহের জলাবদ্ধতার মতো দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান সহজ হবে।
তবে এই প্রস্তাবকে ‘বাস্তবতা বিবর্জিত’ ও ‘বিভাগ সৃষ্টিকারী’ আখ্যা দিয়ে তীব্র বিরোধিতা করেছেন কেশবপুরবাসী। অ্যাডভোকেট আবু দাউদ নিজামীর লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, এই প্রস্তাব বাস্তবায়ন হলে কেশবপুর উপজেলার প্রশাসনিক অখণ্ডতা নষ্ট হবে এবং চরম প্রশাসনিক জটিলতা দেখা দেবে, যা ‘জাতীয় সংসদের নির্বাচনী এলাকার সীমানা নির্ধারণ আইন, ২০২১’-এর মূলনীতির পরিপন্থী।আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ঐতিহাসিকভাবে কেশবপুর একটি একক উপজেলা হিসেবে পরিচিত এবং এর ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত আসনটি এই অঞ্চলের মানুষের পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক। ২০০৮ সালের নির্বাচনে কেশবপুরের সঙ্গে অন্য উপজেলার অংশবিশেষ যুক্ত করার কারণে এলাকার উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছিল এবং জনগণ ভোগান্তির শিকার হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে কেশবপুরবাসী আর উপজেলার বিভক্তি চায় না।অ্যাডভোকেট নিজামী তার আবেদনে অভিযোগ করেন, “জনাব সুকৃতি কুমার মন্ডল যশোরের হিন্দু অধ্যুষিত এলাকার ইউনিয়নগুলোকে নিয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করার জন্য এমন একটি প্রস্তাবনা প্রদান করেছেন।” তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, প্রস্তাবক নিজে কেশবপুর উপজেলার বাসিন্দা বা ভোটার না হয়েও কীভাবে এই এলাকার ভাগ্য নির্ধারণের প্রস্তাব দেন।
কেশবপুর উন্নয়ন ফোরামের পক্ষ থেকে ৫টি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়েছে:
প্রশাসনিক অখণ্ডতা বজায় রেখে কেশবপুরের বিদ্যমান সীমানা ঠিক রাখা।ভৌগোলিক অবস্থান ও ঐতিহাসিক পরিচয়কে সম্মান জানানো।
৩. জনগণের ভোগান্তি লাঘব করা এবং উন্নয়ন কার্যক্রম গতিশীল রাখা।প্রস্তাবক সুকৃতি কুমার মন্ডলের আবেদনটি বাতিল করা।নির্বাচন কমিশনের প্রাথমিক তালিকায় থাকা কেশবপুরের অখণ্ড সীমানা বহাল রাখা।সার্বিকভাবে, কেশবপুরের জনগণ তাদের উপজেলার ভৌগোলিক ও প্রশাসনিক অখণ্ডতা রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ। তারা নির্বাচন কমিশনের কাছে এই অযৌক্তিক প্রস্তাব বাতিল করে যশোর-৬ আসন হিসেবে কেশবপুর উপজেলার একক পরিচিতি বহাল রাখার জন্য জোর দাবি জানিয়েছেন।