সাতক্ষীরা পাটকেলঘাটা প্রতিনিধিঃ
সাতক্ষীরার পাটকেলঘাটা সাব-পোস্ট অফিসে বসে চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ পোস্টাল অপারেটরের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সাব-পোস্ট অফিসের “পোস্টাল অপারেটর” মধুসূদন বাছাড় অফিসের কাজের ফাঁকে তিনি কর্মস্থলে রোগী দেখেন। অভিযোগ উঠেছে, পোস্ট অফিসের একজন সরকারি কর্মচারী হওয়া সত্বেও তিনি বাড়তি আয় করার জন্য হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা প্রদান করে থাকেন। পোস্টাল অপারেটর মধুসূদন বাছাড় এর এমন কর্মকান্ডে এলাকার মানুষ হতবিহ্বল। পাটকেলঘাটা সাব-পোস্ট অফিসের পোস্টাল অপারেটর মধুসূদন বাছাড় পোস্ট অফিসের কাজের ফাঁকে রোগী দেখার খবরটি বিভিন্ন মহলে সরব হয়ে উঠেছে। সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী একজন সরকারি চাকুরিজীবী অন্য কোন পেশায় জড়াতে পারবেনা। একজন সরকারি চাকুরিজীবী সরকারি বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে অন্য কোন পেশায় জড়ালে ঘটবে বিপত্তি। বলাই বাহুল্য সরকারি চাকরি করা কালীন সময় খণ্ডকালীন অন্য চাকরি কিংবা অন্য কোন পেশায় জড়ানো শাস্তিযোগ্য অপরাধ। সরকারি চাকুরিজীবী হয়ে যদি অন্য কোন পেশায় সরাসরি যুক্ত থাকা হয় আর তা প্রমাণিত হয় সেক্ষেত্রে চাকরিও চলে যেতে পারে বলেও মতামত রয়েছে। এসব বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও মধুসূদন বাছাড় সাব-পোস্ট অফিসের পোস্টাল অপারেটর হয়েও এক সাথে দুটি দায়িত্ব কোন শক্তির বলে পালন করেছেন এমন প্রশ্ন এখন ঘুরপাক খাচ্ছে জনমনে। মধুসূদন বাছাড় এর একটি ভিজিটিং কার্ডে দেখা যায়, তিনি একজন চিররোগ ও মনোরোগ বিশেষজ্ঞ। তার নামের আগে যুক্ত করা হয়েছে ডাক্তার পদবি। ডাঃ মধুসূদন বাছাড়, ডি এইচ এম এস (ঢাকা) হোমিওপ্যাথিক কনসালট্যান্ট। খোজ নিয়ে জানা গেছে, পাটকেলঘাটা সাব-পোস্ট অফিসের দ্বিতীয় তলার একটি কক্ষে মধুসূদন বাছাড় তার হোমিওপ্যাথিক ওষুধ রাখে বিক্রির জন্য। মধুসূদন বাছাড় একজন সরকারি চাকুরিজীবী আবার তিনি পেশায় একজন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক।
পোস্টাল অপারেটরের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দূর থেকে আসা প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দিয়ে তিনি মাসে ইনকাম করেন লক্ষাধিক টাকা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, পাটকেলঘাটা সাব-পোস্ট অফিসে দীর্ঘদিন যাবত মধুসূদন বাছাড় কাজের ফাঁকে তার কাছে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের গোপনে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দেয়। সেকারণে বলা চলে, তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সাব-পোস্ট অফিস এখন হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা কেন্দ্রে পরিনত।
এ বিষয় দেবহাটা সাব-পোস্ট অফিসের পোস্টাল অপারেটর এর দায়িত্বে থাকা মধুসূদন বাছাড় এর সাথে সরাসরি আলাপকালে, পোস্ট অফিসের পোস্টাল অপারেটর হিসেবে প্রথমে পরিচয় প্রদান করেন। হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে কথোপকথনের একপর্যায় তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক বলে পরিচয় প্রকাশ করেন। ভিজিটিং কার্ড এর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে ইতস্তত বোধ করলেও পরে ভিজিটিং কার্ডটি তার বলে অকপটে স্বীকার করেন। সরকারি চাকুরিজীবী হওয়া সত্বেও ডাক্তারী পেশা কতটুকু আইন সম্মত এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা বৈধ নয় সঠিক। অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি অস্বীকার করে বলেন, পোস্ট অফিসে আমি কোন রোগী দেখিনা আমার নিজস্ব চেম্বার আছে সেখানে আমি ছুটির দিনে রোগী দেখি। এ ঘটনায় সচেতন মহল সহ সুশীল সমাজের ব্যক্তিরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।