
নিজস্ব প্রতিবেদক:তালা, সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার খলিষখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোজাফফর রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন, দখল ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে তার ছেলে মিতুনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্ট সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ নিয়েও এলাকায় আলোচনা চলছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে মোজাফফর রহমান বিপুল সম্পদের মালিক হয়েছেন। তার বিরুদ্ধে জমি-জমা দখল, ক্ষমতার প্রভাব খাটানো এবং বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ-সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের নথি, জমির দলিল, আয়কর তথ্য ও অন্যান্য সম্পদের হিসাব পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
৫ আগস্টের ঘটনায় ছেলে মিতুনকে ঘিরে অভিযোগ
অভিযোগ রয়েছে, ৫ আগস্ট সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় মোজাফফর রহমানের ছেলে মিতুন জড়িত ছিলেন। ওই ঘটনার পর তার বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়েছে কি না, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না এবং তদন্তের অগ্রগতি কী—এসব বিষয় নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য, ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নথি যাচাই করা প্রয়োজন।
সম্পদের উৎস নিয়ে প্রশ্ন
স্থানীয়দের ভাষ্য, মোজাফফর রহমানের বর্তমান সম্পদ ও জীবনযাত্রার সঙ্গে তার পারিবারিক অতীতের আর্থিক অবস্থার মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য রয়েছে। স্থানীয়ভাবে প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, তার বাবা একসময় গরু ও নাঙ্গল বিক্রিসহ সাধারণ ব্যবসা করে সংসার চালাতেন।
তাহলে অল্প সময়ের মধ্যে বিপুল সম্পদ কীভাবে গড়ে উঠল—এ প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা। তাদের দাবি, মোজাফফর রহমানের নামে ও পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা জমি, বাড়ি, ব্যবসা ও অন্যান্য সম্পদের বৈধ উৎস অনুসন্ধান করা হলে প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে।
মোজাফফর রহমানের বাড়ি তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন খলিষখালী ইউনিয়নের চোমারখালী গ্রামে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সেখানে তার সম্পদের পরিমাণ ও মালিকানার ধরন নিয়েও নানা আলোচনা রয়েছে।
ভাই মনিরুজ্জামানকে ঘিরেও অভিযোগ
মোজাফফর রহমানের ভাই মনিরুজ্জামান, যিনি কৃষক লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে পরিচিত, তাকেও ঘিরে ব্যক্তিগত সম্পর্কসংক্রান্ত একটি অভিযোগ এলাকায় আলোচিত হচ্ছে।
স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, একজন হিন্দু বিধবা নারীর সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। তবে এটি ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর একটি অভিযোগ হওয়ায় এর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তের দাবি স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, মোজাফফর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ উঠেছে, সেগুলো রাজনৈতিক প্রতিহিংসা নাকি বাস্তব অনিয়ম—তা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
তারা মোজাফফর রহমানের সম্পদের উৎস, জমি-জমা, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি-বেসরকারি লেনদেন এবং তার ছেলে মিতুনের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের হামলার অভিযোগ—সবকিছু পৃথকভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
একই সঙ্গে স্থানীয়দের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে; আর অভিযোগ মিথ্যা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরও আইনি প্রতিকার পাওয়ার সুযোগ দিতে হবে।
এ বিষয়ে মোজাফফর রহমান, তার ছেলে মিতুন ও ভাই মনিরুজ্জামানের কাছে বারবার ফোন দিলেও ফোনটা রিসিভ না করাই বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি