
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে সেবা নিতে আসা সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় ও দালালনির্ভর সেবা ব্যবস্থার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। নানা সময়ে এসব অভিযোগ উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় ক্ষোভ বাড়ছে সেবাগ্রহীতাদের মধ্যে। অভিযোগ রয়েছে, পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেক সেবাগ্রহীতা।
অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে অফিস সহকারী মনিরুজ্জামান মনির-এর নাম। অভিযোগকারীদের দাবি, পাসপোর্টের আবেদন, তথ্য সংশোধন, দ্রুত সেবা, জটিলতা নিরসনসহ বিভিন্ন বিষয়ে একটি প্রভাবশালী মহল অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সঙ্গে জড়িত। এ ব্যবস্থায় মনিরুজ্জামানের ভূমিকা কী—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীদের কেউ কেউ।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দেখা এবং কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করেও অনেক সময় কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে অতিরিক্ত অর্থের চাপের মুখে পড়তে হয়। কেউ অতিরিক্ত অর্থ দিতে অস্বীকৃতি জানালে তার কাজ বিলম্বিত করা কিংবা নানা ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়—এমন অভিযোগও পাওয়া গেছে।
আরও অভিযোগ রয়েছে, অফিসের আশপাশে সক্রিয় কথিত দালালচক্রের মাধ্যমে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয়। প্রশ্ন উঠেছে—অফিসের ভেতরে-বাইরে যদি এমন একটি চক্র সক্রিয় থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?
‘ঘুষের কারখানা’—তদন্ত চায় ভুক্তভোগীরাভুক্তভোগীদের কয়েকজনের ভাষ্য, পাসপোর্ট অফিসে সাধারণ মানুষ যেন হয়রানির শিকার না হন এবং সরকারি সেবা পেতে কাউকে অতিরিক্ত অর্থ দিতে না হয়—এ জন্য কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। অভিযোগগুলো সত্য হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
অভিযোগের বিষয়ে অফিস সহকারী মনিরুজ্জামান মনিরের বক্তব্য জানা গেলে তা যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
সাতক্ষীরা পাসপোর্ট অফিসে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে পাসপোর্ট অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন নাগরিকরা। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা এবং অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
জনগণের অর্থে পরিচালিত সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা এখন সময়ের দাবি।