
নিজস্ব প্রতিবেদক তালা, সাতক্ষীরা;
দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক প্রভাবের সময় একের পর এক অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থ-সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও খলিশখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মোজাফফর রহমানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাতক্ষীরা, তালা ও পাটকেলঘাটা এলাকায় বিপুল সম্পদ গড়ে তুলেছেন।
স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, সাতক্ষীরা ও পাটকেলঘাটা এলাকায় মোজাফফর রহমানের কোটি কোটি টাকার সম্পদ রয়েছে। এর মধ্যে জমি-জমা, বাড়িঘরসহ বিভিন্ন স্থাবর সম্পদের কথা স্থানীয়ভাবে আলোচিত হচ্ছে। পাটকেলঘাটায় তার একটি বিলাসবহুল বাড়ি নিয়েও রয়েছে নানা আলোচনা। এসব সম্পদের প্রকৃত মূল্য কত এবং এগুলোর অর্থের উৎস কী—তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দীর্ঘ সময় রাজনৈতিক প্রভাবশালী অবস্থানে থাকার কারণে তিনি এলাকায় ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করেন। সেই প্রভাবের মাধ্যমে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা নেওয়া এবং সম্পদের পরিমাণ বাড়ানোর অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে তার সম্পদ বিবরণী, আয়কর নথি, জমির দলিল ও অন্যান্য সরকারি নথি পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক অবস্থান বদল নিয়েও আলোচনা
৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর মোজাফফর রহমানের রাজনৈতিক অবস্থান নিয়েও স্থানীয় পর্যায়ে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত থাকার পর পরিস্থিতি পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে তিনি নতুন রাজনৈতিক সমীকরণের সঙ্গে নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, সাম্প্রতিক সময়ে তাকে বিভিন্ন বিএনপি নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করতে এবং তাদের দ্বারে দ্বারে যেতে দেখা গেছে। তবে এ ধরনের রাজনৈতিক যোগাযোগের প্রকৃত উদ্দেশ্য কী, সেটি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য ও তথ্য-প্রমাণের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের ধরিয়ে দেওয়ার অভিযোগ
মোজাফফর রহমানের বিরুদ্ধে অতীত রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়েও গুরুতর অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে জামায়াত-বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে হয়রানি এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে তথ্য দেওয়ার ঘটনায় তার ভূমিকা ছিল। এমনকি কারও কারও অভিযোগ, তিনি নিজে বাড়িতে গিয়ে বিরোধী রাজনৈতিক দলের লোকজনকে ধরিয়ে দেওয়ার কাজে ভূমিকা রাখতেন।
তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নির্ভরযোগ্য নথি, মামলা বা প্রত্যক্ষ সাক্ষ্য যাচাই করা প্রয়োজন। অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এগুলোকে কেবল অভিযোগ হিসেবেই দেখা উচিত।
মামলা না হওয়া নিয়েও প্রশ্নস্থানীয়দের আরও অভিযোগ, ৫ আগস্টের আগে ও পরে তার বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ থাকলেও এখন পর্যন্ত তার নামে কোনো মামলা হয়নি। ফলে স্থানীয় পর্যায়ে প্রশ্ন উঠেছে—দীর্ঘদিন রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী থাকার সময়কার কর্মকাণ্ড এবং তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো কি যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়েছে?
স্থানীয়দের একটি অংশ বলছেন, কারও রাজনৈতিক পরিচয় বিবেচনা না করে অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে তার সম্পদের উৎস, গত ১৭ বছরে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ এবং তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সম্পদের সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের খতিয়ে দেখা উচিত।
তদন্তের দাবি
সচেতন মহলের দাবি, মোজাফফর রহমানের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলো সত্য হলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক। আর অভিযোগগুলো অসত্য হলে তদন্তের মাধ্যমে সেটিও পরিষ্কার করা হোক। বিশেষ করে তার নামে বা পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা সম্পদ, জমি-জমা, বাড়িঘর এবং আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ অনুসন্ধান প্রয়োজন।
এ বিষয়ে মোজাফফর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে তার বক্তব্য হিসেবে যথাযথভাবে প্রকাশ করা হবে।
দ্রষ্টব্য: প্রতিবেদনে উল্লিখিত বিষয়গুলো স্থানীয়দের অভিযোগ ও দাবির ভিত্তিতে উপস্থাপিত। কোনো অভিযোগ আদালত বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে দোষী হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।