
মোঃ শাহিনুর রহমান শাহিন নিজিস্ব প্রতিনিধি:সাতক্ষীরা তালা উপজেলার নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা নিয়ে নানা প্রশ্ন ও অভিযোগ উঠেছে। সরকারি অর্থের সঠিক ব্যবহার হয়েছে কি না, বরাদ্দকৃত অর্থের বিপরীতে বাস্তবে কী ধরনের সংস্কারকাজ হয়েছে এবং কাজের ব্যয় ও হিসাব-নিকাশ যথাযথভাবে সম্পন্ন হয়েছে কি না—এসব বিষয় নিয়ে স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে আলোচনা ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, ইউনিয়ন পরিষদ সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ব্যবহার নিয়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হয়নি। এ বিষয়ে অনুসন্ধান ও সংবাদ প্রকাশের পর বিষয়টি আরও আলোচনায় আসে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র, প্রকল্পের কাগজপত্র, ব্যয়ের হিসাব, কাজের পরিমাণ ও বাস্তব অবস্থা খতিয়ে দেখা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।এদিকে, এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্যানেল সদস্য শিব মন্ডল ও ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি ভিন্ন দিকে নেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে—এমন অভিযোগও উঠেছে। বিশেষ করে সংবাদ প্রকাশের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিক মোঃ শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন করে বিভিন্ন অভিযোগ ও অপপ্রচার চালানোর প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।
স্থানীয় জনসাধারণের একাংশের দাবি, ইউনিয়ন পরিষদের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোছাম্মদ মর্জিনা বেগমের সম্পৃক্ততা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণ না করে কোনো অভিযোগকে চূড়ান্ত সত্য হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, সরকারি অর্থের অনিয়মের অভিযোগ থাকলে সেটির সঠিক তদন্ত হওয়া দরকার। কে জড়িত, কে জড়িত নন—তা নির্ধারণ করবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও নথিপত্র। কোনো সাংবাদিক সরকারি অর্থের ব্যবহার নিয়ে প্রশ্ন তুললে বা তথ্য প্রকাশ করলে তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগত আক্রমণ, অপপ্রচার কিংবা বিভ্রান্তিকর বক্তব্য দিয়ে মূল বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেছেন তারা।সংবাদ প্রকাশের পর পাল্টা কর্মসূচি কেন?স্থানীয়দের প্রশ্ন, ১০ লাখ টাকা সংস্কার বরাদ্দের ব্যবহার নিয়ে যখন জনমনে প্রশ্ন উঠেছে, তখন সেই অর্থের হিসাব ও কাজের বাস্তব চিত্র জনসম্মুখে তুলে ধরার পরিবর্তে সাংবাদিক মোঃ শাহিনুর রহমানকে কেন্দ্র করে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন কেন করা হচ্ছে? সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ থাকে, তাহলে তার পক্ষে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ ও নথিপত্র উপস্থাপন করাও সংশ্লিষ্টদের অধিকার। কিন্তু কোনো সাংবাদিককে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর বা যাচাইহীন তথ্য প্রচার করা হলে তা স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিবেশের জন্য উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।প্রকৃত বিষয় বেরিয়ে আসুক তদন্তে নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকা কোথায়, কীভাবে এবং কোন খাতে ব্যয় হয়েছে—এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে স্বচ্ছ হিসাব প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই সঙ্গে সংস্কারকাজের প্রাক্কলন, কার্যাদেশ, বিল-ভাউচার, কাজের পরিমাপ, প্রকল্প বাস্তবায়নের নথি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি রেকর্ড যাচাই করে প্রয়োজনে তদন্ত করার দাবি উঠেছে।স্থানীয়দের মতে, তদন্ত হলে প্রকৃত সত্য সহজেই বেরিয়ে আসবে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার হয়ে থাকলে সংশ্লিষ্টদের কোনো ধরনের ভয়ের কারণ নেই। আর যদি কোনো অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।এদিকে সাংবাদিক মোঃ শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে আয়োজিতব্য সংবাদ সম্মেলনে কী ধরনের বক্তব্য দেওয়া হবে এবং তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগের পক্ষে কী প্রমাণ উপস্থাপন করা হবে—তা নিয়েও এলাকায় কৌতূহল তৈরি হয়েছে।
সচেতন মহলের দাবি, ব্যক্তিগত বিরোধ বা পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের পরিবর্তে নগরঘাটা ইউনিয়ন পরিষদের সংস্কারের জন্য বরাদ্দকৃত ১০ লাখ টাকার প্রকৃত হিসাব ও কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য, সরকারি নথিপত্র এবং তদন্তের ফলাফল প্রকাশ্যে এলে প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী।