
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা থানাধীন ৯ নম্বর খলিষখালী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের শুকতিয়া-টিকারামপুর গ্রামে এক নারীকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। মোছা. সিমা খাতুন নামের ওই নারীকে নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে নানা আলোচনা ও ক্ষোভ রয়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের। তবে অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, সিমা খাতুন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন। এ নিয়ে এলাকায় অসন্তোষ সৃষ্টি হলে প্রায় ছয় বছর আগে তিনি ভারতে চলে যান বলে দাবি তাদের। পরে ভারতে অবস্থানকালে তার ধর্মীয় পরিচয় পরিবর্তনের দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত কিছু ছবির কথা উল্লেখ করেছেন এলাকাবাসী।অভিযোগকারীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কয়েকটি ছবিতেসিমা খাতুনকে টিপ ও সিঁদুর পরিহিত অবস্থায় দেখা যায়। এসব ছবি তার নিজের একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট থেকেই প্রকাশ করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তারা। ভারতে অবস্থানকালে তিনি ‘কাজল’ নামে পরিচিত হয়েছেন বলেও কয়েকজন এলাকাবাসী দাবি করেছেন।
এলাকাবাসীর ক্ষোভস্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি নিয়ে তারা দীর্ঘদিন ধরে উদ্বিগ্ন। তাদের অভিযোগ, ধর্মীয় পরিচয়কে কেন্দ্র করে এমন কর্মকাণ্ড সামাজিকভাবে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। এ ঘটনায় প্রকৃত সত্য কী, সেটি তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “আমরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে টিপ ও সিঁদুর পরা ছবি দেখেছি। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা হচ্ছে। আমরা কারও বিরুদ্ধে অন্যায় অভিযোগ করতে চাই না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক—এটাই আমাদের দাবি।”
আরেকজন এলাকাবাসী বলেন, “ঘটনাটি নিয়ে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও আমরা কোনো সুস্পষ্ট উত্তর পাইনি। তাই প্রশাসনের কাছে বিষয়টি যাচাই করার দাবি জানাচ্ছি।”
পরিবারের বক্তব্য পাওয়া যায়নি অভিযোগের বিষয়ে সিমা খাতুনের বাবা মো. রবিউল গাজীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।অন্যদিকে সিমা খাতুনের বড় ভাই মিলন গাজীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি সাংবাদিকদের কোনো বক্তব্য দিতে রাজি নন বলে জানান এবং সেখান থেকে চলে যান।তদন্তের দাবি স্থানীয়দের অভিযোগের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত ছবি ও তথ্যের সত্যতা যাচাই করা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল। একই সঙ্গে ওই নারীর ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় স্বাধীনতার বিষয়টিও আইন ও সংবিধানের আলোকে বিবেচনা করার দাবি উঠেছে।এলাকাবাসী বলছেন, অভিযোগ সত্য হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং অভিযোগ অসত্য হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা হোক। কোনো ব্যক্তিকে সামাজিকভাবে হেয় না করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।এ বিষয়ে পাটকেলঘাটা থানা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। প্রশাসনের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে।