
তালা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার পুলিশকাটি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত খালিশখালি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অধীন কাশিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক নিয়ে স্থানীয়দের অভিযোগের যেন শেষ নেই। এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক হাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সময়ে ক্লিনিকে উপস্থিত না থাকা এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা পেতে ভোগান্তির অভিযোগ উঠে আসে। অভিযোগের পর এবার সামনে এসেছে আরও কিছু প্রশ্ন—সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত তদারকি ও জবাবদিহিতা কতটা কার্যকর?
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কাশিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকে চিকিৎসাসেবা নিতে এসে অনেক সময় নির্ধারিত সময়ে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসককে পাওয়া যায় না। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগীদের অপেক্ষা করতে হয়। বিশেষ করে জরুরি প্রাথমিক চিকিৎসার প্রয়োজন থাকা রোগীদের জন্য এমন পরিস্থিতি ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
অফিস সময়ে উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নির্ধারিত কর্মঘণ্টা অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু স্থানীয়দের অভিযোগ, কাশিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকে এ বিষয়ে সব সময় যথাযথ শৃঙ্খলা দেখা যায় না।
অভিযোগকারীদের দাবি, কখনো কখনো অফিস সময় পার হওয়ার পরও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকের উপস্থিতি না পাওয়ায় রোগীদের ফিরে যেতে হয়। আবার কেউ কেউ দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করার পর চিকিৎসাসেবা পান বলে অভিযোগ করেছেন।
তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা বের করে আনা জরুরি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
তাহলে নজরদারি করছে কে?
স্থানীয়দের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন—একটি সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে যদি নিয়মিতভাবে উপস্থিতি ও সেবা নিয়ে অভিযোগ ওঠে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?
তাদের দাবি, খালিশখালি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষ নিয়মিতভাবে কাশিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিক পরিদর্শন করে থাকলে সেখানে চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের উপস্থিতি, রোগী দেখার কার্যক্রম এবং ক্লিনিকের সার্বিক ব্যবস্থাপনা সহজেই যাচাই করা সম্ভব।
এলাকাবাসী চান, শুধু অভিযোগের ভিত্তিতে নয়—সরেজমিনে তদন্ত করে বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হোক।
রোগীদের সেবা নিশ্চিত করার দাবি
স্থানীয়দের ভাষ্য, কমিউনিটি ক্লিনিক সাধারণ মানুষের জন্য সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাস্থ্যসেবা উদ্যোগ। গ্রামের দরিদ্র ও অসহায় মানুষ অনেক সময় দূরের হাসপাতালে যেতে না পেরে এসব ক্লিনিকের ওপর নির্ভর করেন।
তাই কাশিয়াডাঙ্গা কমিউনিটি ক্লিনিকে নিয়মিত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা, দায়িত্বপ্রাপ্তদের উপস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা এবং রোগীদের অভিযোগ শোনার ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন তারা।
তদন্ত হলে বেরিয়ে আসতে পারে প্রকৃত চিত্র
স্থানীয়দের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিয়মিত পরিদর্শন, উপস্থিতির রেজিস্টার যাচাই এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলার দাবি উঠেছে।
এলাকাবাসীর মতে, তদন্ত হলে চিকিৎসক হাফিজুর রহমান নির্ধারিত সময়ে দায়িত্ব পালন করছেন কি না এবং রোগীরা প্রকৃতপক্ষে কী ধরনের সেবা পাচ্ছেন—তার একটি পরিষ্কার চিত্র বেরিয়ে আসতে পারে। চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
চিকিৎসক হাফিজুর রহমানের বক্তব্য পাওয়া গেলে অভিযোগের বিপরীতে তার বক্তব্যও প্রতিবেদনের পরবর্তী পর্বে গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে খালিশখালি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলেও তা পাঠকদের সামনে তুলে ধরা হবে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই না হওয়া পর্যন্ত কাউকে দোষী হিসেবে চূড়ান্তভাবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজরদারি ও তদন্ত জরুরি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
চলবে…