
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরা জেলা পাসপোর্ট অফিসের অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানকে ঘিরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি এবং দালালদের মাধ্যমে কাজ করিয়ে দেওয়ার অভিযোগের পর এবার এসব অভিযোগের প্রকৃত কারণ ও সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে।
ভুক্তভোগীদের কয়েকজনের দাবি, পাসপোর্ট সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তারা নির্ধারিত সরকারি ফি সম্পর্কে বিভ্রান্তির মধ্যে পড়েছেন। কেউ কেউ অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার অভিযোগও করেছেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট সেবাগ্রহীতাদের বক্তব্য, টাকা লেনদেনের প্রমাণ, অফিসের নথিপত্র এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
দালালদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন
পাসপোর্ট অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই দালালদের দৌরাত্ম্য নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, অফিসের বাইরে থাকা কিছু ব্যক্তি সেবাগ্রহীতাদের দ্রুত কাজ করে দেওয়ার কথা বলে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করেন। এসব দালালের সঙ্গে অফিসের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা।
অভিযোগকারীদের মতে, কোনো কর্মচারী যদি সরকারি সেবাকে কেন্দ্র করে ব্যক্তিগতভাবে অর্থ গ্রহণ বা অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার সঙ্গে জড়িত থাকেন, তাহলে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
তদন্তে কী কী বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার?
সচেতন মহলের দাবি, অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে কয়েকটি বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখা প্রয়োজন—
১. সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া হয়েছে কি না।
২. অভিযোগের সঙ্গে কোনো দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না।
৩. অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ ও সংশ্লিষ্ট নথিতে কোনো অনিয়মের তথ্য পাওয়া যায় কি না।
৪. অভিযোগকারীদের লিখিত অভিযোগ বা অর্থ লেনদেনের কোনো প্রমাণ রয়েছে কি না।
৫. অভিযুক্ত কর্মচারীর বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবস্থান কী।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ
একজন সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ক্ষেত্রে একতরফা বক্তব্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। অভিযোগগুলো সত্য হলে যথাযথ ব্যবস্থা এবং অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন হলে সেটিও তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে অফিস সহকারী মনিরুজ্জামানের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে যথাযথ গুরুত্বসহকারে প্রকাশ করা হবে।
চলবে…