1. admin@dailyksonarbangladesh.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৮ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, কালীগঞ্জে বিএনপি’র পেশাজীবী দলের কমিটি গঠন সম্পন্ন শফিক- সভাপতি, লিটন- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নড়াইলের লোহাগড়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নড়াইলে মাদকদ্রব্যসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক শ্যামনগরে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তি বহু পুরুষের সাথে ‎শারিরীক মেলামেশায় জরায়ু অপরেশন নায়েব শর্মিষ্ঠার ‎* জরায়ু কাটাহলেও থেমে নেই অবাধ মেলামেশা । ‎* ডজন খানেক প্রেমের সত্যতা মিলেছে। * স্বামী অক্ষম হওয়ায় তরুণ যুবক তার্গেট নিজের নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকের নামে মামলা? মীর শাহীনকে ঘিরে পুরোনো মামলার নথি, ব্যবসা ও পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তালা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক হাফিজুর রহমান সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড

৫ আগস্টের পর বাংলাদেশে অপরাধের চিত্র: খুন, ধর্ষণ ও নির্যাতনে উদ্বেগ বাড়ছে

  • আপডেট সময় : মঙ্গলবার, ১১ আগস্ট, ২০২৬
  • ৯৮ বার পঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:
৫ আগস্ট ২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে উদ্বেগ কমেনি। খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, গণপিটুনি, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং বিভিন্ন ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে নিয়মিতই খবর আসছে। তবে এসব অপরাধের একটি একক সরকারি সমন্বিত পরিসংখ্যান নেই। পুলিশে দায়ের হওয়া মামলা, মানবাধিকার সংগঠনের নথিভুক্ত ঘটনা এবং সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য—প্রতিটির হিসাব পদ্ধতি আলাদা।
আন্দোলনের সময় নিহতের সংখ্যা নিয়েও রয়েছে পৃথক হিসাব
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলন ও পরবর্তী সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে পার্থক্য রয়েছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK) সংবাদপত্রভিত্তিক হিসাবে ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আন্দোলন-সংশ্লিষ্ট ৯১০ জনের মৃত্যুর তথ্য নথিভুক্ত করেছে; এর মধ্যে ৭৬১ জনের পরিচয় শনাক্ত এবং ১৪৯ জনের পরিচয় অজ্ঞাত ছিল।
অন্যদিকে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের বৃহত্তর হিসাব নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে আন্দোলনকেন্দ্রিক সহিংসতায় নিহতের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে নিহতের একটি নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখের ক্ষেত্রে উৎস ও সময়সীমা স্পষ্ট করা জরুরি।
খুনের ঘটনায় উদ্বেগ
২০২৬ সালের প্রথম চার মাসেই দেশে ১,১৪২টি হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে বলে একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। একই সময়ে ২০২৫ সালে মামলা হয়েছিল ১,০১৭টি। অর্থাৎ মামলা দায়েরের হিসাবে চলতি বছরের প্রথম চার মাসে বৃদ্ধি দেখা গেছে।
তবে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—হত্যা মামলা ও নিহত ব্যক্তির সংখ্যা একই বিষয় নয়। একটি মামলায় একাধিক নিহত ব্যক্তি থাকতে পারেন, আবার কোনো ঘটনার মামলা পরবর্তী সময়ে দায়ের হতে পারে।
ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের চিত্রও ভয়াবহ
নারী ও শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনাও উদ্বেগজনক। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের ২০২৫ সালের বার্ষিক হিসাবে ৭৮৬ নারী ও শিশু ধর্ষণ বা দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়। তাদের মধ্যে ৫৪৩ জন শিশু। ২০২৪ সালের তুলনায় এ সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
আইন ও সালিশ কেন্দ্রও নিয়মিত ধর্ষণ ও নারী-শিশু নির্যাতনের পরিসংখ্যান প্রকাশ করছে। সংস্থাটির ২০২৬ সালের তথ্যভাণ্ডারে জানুয়ারি-জুলাই পর্যন্ত ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন, শিশু হত্যা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে মৃত্যু, কারা হেফাজতে মৃত্যু, গণপিটুনি ও রাজনৈতিক সহিংসতার পৃথক হিসাব রাখা হয়েছে।
শিশুরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে
শিশু নির্যাতনের চিত্রও ভয়াবহ। ২০২৫ সালে শিশু অধিকার নিয়ে একটি গবেষণায় ১২৪ শিশুর হত্যার ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ৩৫টি ঘটনায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ/চার্জ এবং মাত্র দুটি ঘটনায় দণ্ডের তথ্য পাওয়া যায় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৬ সালেও একের পর এক শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা দেশজুড়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি করেছে। আইন ও সালিশ কেন্দ্র জানিয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম কয়েক মাসে শিশুদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনাগুলো বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।
শুধু মামলা নয়, বিচারহীনতাও বড় প্রশ্ন
অপরাধের সংখ্যা যতটা উদ্বেগের, তার চেয়েও বড় প্রশ্ন হচ্ছে—এসব মামলার কতগুলো শেষ পর্যন্ত বিচারে পৌঁছাচ্ছে এবং কতগুলোতে অপরাধীর সাজা হচ্ছে।
একটি যৌথ গবেষণায় ২০২৫ সালের প্রথমার্ধে ৩২ জেলার নারী ও শিশু নির্যাতনসংক্রান্ত ৪,০৪০টি নিষ্পত্তি হওয়া মামলা বিশ্লেষণ করে মাত্র ৩ শতাংশ মামলায় দণ্ডের তথ্য পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিপুলসংখ্যক মামলা দীর্ঘদিন ধরে বিচারাধীন রয়েছে। এতে ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবারের মধ্যে বিচার পাওয়া নিয়ে হতাশা তৈরি হচ্ছে।
তথ্যের ঘাটতিও বড় সমস্যা
বাংলাদেশে খুন, ধর্ষণ, নারী ও শিশু নির্যাতন এবং অন্যান্য সহিংসতার একটি সমন্বিত, রিয়েল-টাইম জাতীয় ডাটাবেজ প্রকাশ্যে নেই। পুলিশ সাধারণত দায়ের হওয়া মামলা গণনা করে, আর মানবাধিকার সংগঠনগুলো সংবাদমাধ্যম, মাঠপর্যায়ের তথ্য ও নিজস্ব অনুসন্ধানের ভিত্তিতে ঘটনা নথিভুক্ত করে। ফলে একই অপরাধের ক্ষেত্রে সরকারি ও বেসরকারি পরিসংখ্যানে পার্থক্য দেখা যায়।
প্রশ্ন এখন নিরাপত্তা ও জবাবদিহি নিয়ে
৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর বাংলাদেশের মানুষের প্রত্যাশা ছিল—আইনের শাসন শক্তিশালী হবে, অপরাধী যে-ই হোক দ্রুত আইনের আওতায় আসবে এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ের খুন, ধর্ষণ, নারী-শিশু নির্যাতন, গণপিটুনি ও বিভিন্ন সহিংসতার ঘটনাগুলো সেই প্রত্যাশার সামনে বড় প্রশ্ন তৈরি করেছে।অপরাধ দমনে শুধু মামলা দায়ের করাই যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন দ্রুত তদন্ত, নিরপেক্ষভাবে আসামি শনাক্তকরণ, সাক্ষী ও ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, দ্রুত বিচার এবং অপরাধ প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ শাস্তি।
সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। তাই ৫ আগস্ট ২০২৪-এর পর থেকে সংঘটিত গুরুতর অপরাধগুলোর একটি সমন্বিত জাতীয় পরিসংখ্যান প্রকাশ, মামলার অগ্রগতি নিয়মিত জানানো এবং বিচারহীনতার কারণ চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এখন সময়ের দাবি।
তথ্যসূত্র: আইন ও সালিশ কেন্দ্র (ASK), বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ এবং প্রকাশিত সরকারি/সংবাদমাধ্যমের পরিসংখ্যান।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক সোনার বাংলাদেশ
Theme Customized By Shakil IT Park