ঢাকা (কেরানীগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কেরানীগঞ্জ উপজেলার তারানগর ইউনিয়নের ইউপি সচিব আরিফ রহমানকে ঘিরে দুর্নীতি, অবৈধ সম্পদ অর্জন ও সাংবাদিকদের হুমকির অভিযোগে স্থানীয় এলাকায় তীব্র আলোচনা ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। এর আগের পর্বগুলোতে উত্থাপিত অভিযোগের ধারাবাহিকতায় এবার উঠে এসেছে নতুন কিছু তথ্য ও স্থানীয়দের বিস্তৃত প্রতিক্রিয়া।
স্থানীয় সূত্রের দাবি, সরকারি দায়িত্ব পালনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সেবা খাতে অনিয়ম ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সম্পদ গড়ে তুলেছেন। অভিযোগ রয়েছে, এই অর্থের একটি অংশ বিভিন্ন ব্যাংকে জমা রয়েছে। তার সাবেক কর্মস্থল চৌহাট ইউনিয়ন পরিষদেও দায়িত্ব পালনকালে একই ধরনের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল বলে একাধিক ব্যক্তি জানিয়েছেন।সাংবাদিকদের অনুসন্ধানী কার্যক্রম শুরু হলে পরিস্থিতি নতুন মোড় নেয়। অভিযোগ অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করলে ইউপি সচিব সরাসরি কথা না বলে তার স্ত্রীকে দিয়ে ফোনে কথা বলান। সেখানে মামলা ও পুলিশি ঝামেলার ইঙ্গিত দিয়ে সাংবাদিকদের নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। স্থানীয়দের ভাষ্য, এটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও তথ্য প্রকাশের অধিকারের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টির কৌশল।এলাকাবাসীর অভিযোগসমূহঃজন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবায় দীর্ঘসূত্রতা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়।
প্রভাবশালী রাজনৈতিক মহলের ছত্রছায়ায় থেকে ক্ষমতার অপব্যবহার।সাবেক কর্মস্থলেও একই ধরনের অনিয়মের নজির।তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে ইউপি সচিব আরিফ রহমানের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য এখনো পাওয়া যায়নি। তার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি বলে জানা গেছে।এলাকাবাসীর দাবিঃঅভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত।প্রমাণিত হলে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা।সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও অবাধ তথ্য সংগ্রহের পরিবেশ নিশ্চিত করা।সচেতন মহলের মতে, দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ অনুসন্ধান করতে গিয়ে সাংবাদিকদের ভয়ভীতি দেখানো হলে তা শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের গণতান্ত্রিক কাঠামোর জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। তাই বিষয়টি দ্রুত ও স্বচ্ছ তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার করা জরুরি।
(চলবে…)