স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় প্রতীকের ব্যবহার বহাল থাকবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আগামী সংসদ অধিবেশনে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। মঙ্গলবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি উল্লেখ করেন যে, ১২ মার্চ থেকে শুরু হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনার পর চূড়ান্ত ঘোষণা আসবে। দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থায় সংস্কার এবং জনমতের প্রতিফলন ঘটাতেই এই স্পর্শকাতর বিষয়টি সংসদের ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।দেশের ছয়টি বড় সিটি করপোরেশনে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত প্রশাসকরা আজ মঙ্গলবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁদের নিজ নিজ কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। দায়িত্ব গ্রহণের পর তাঁরা সচিবালয়ে এলজিআরডি মন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা গ্রহণ করেন। নবনিযুক্ত প্রশাসকরা এ সময় মন্ত্রীকে আশ্বস্ত করেন যে, নির্বাচনের আগ পর্যন্ত তাঁরা স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে নাগরিক সেবা এবং উন্নয়ন প্রকল্পের ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে কার্যকর ভূমিকা পালন করবেন।নির্বাচন আয়োজনের সময়সীমা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, যেসব সিটি করপোরেশনের মেয়াদ আগে শেষ হয়েছে বা হচ্ছে, সেগুলোতে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ভোটের আয়োজন করবে সরকার। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ এবং চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন প্রথমে অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। এরপর পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সিটি করপোরেশনগুলোতে নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হবে। বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত এবং জনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে বলে মন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করেন।প্রশাসনিক স্থবিরতা দূর করতে নতুন প্রশাসকদের নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে এলজিআরডি মন্ত্রী বলেন, নাগরিকদের ভোগান্তি কমানো এবং দাপ্তরিক চেইন অব কমান্ড বজায় রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ১২ মার্চের সংসদ অধিবেশনটি স্থানীয় সরকার কাঠামোর ভবিষ্যৎ রূপরেখা নির্ধারণে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে। সরকারের এই সিদ্ধান্ত স্থানীয় রাজনীতিতে একটি বড় ধরণের গুণগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকরা। সব মিলিয়ে আগামী মার্চের সংসদ অধিবেশনের দিকেই এখন তাকিয়ে রয়েছে দেশের রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষ।