নিজস্ব প্রতিবেদক: সাতক্ষীরা
সাতক্ষীরা-২ পানি উন্নয়ন বোর্ডে (পাউবো) দীর্ঘদিন ধরে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে কর্তৃপক্ষের ভূমিকা। অভিযোগের তীর গিয়ে ঠেকেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান তাযকিয়া ও তার সহকারী আলমগীরের দিকে। স্থানীয়দের দাবি, পাহাড়সম অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও রহস্যজনক কারণে তারা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ঠিকাদার ও ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রকল্প বাস্তবায়ন, বাঁধ সংস্কার, খনন কাজ ও বিল ভাউচার প্রক্রিয়ায় ব্যাপক অনিয়ম হচ্ছে। নির্ধারিত কাজ না করেই বিল উত্তোলন, নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার, কাজের পরিমাণ কম দেখিয়ে অতিরিক্ত অর্থ আত্মসাৎ এবং ঠিকাদারদের কাছ থেকে অবৈধ সুবিধা গ্রহণের মতো অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরে শোনা যাচ্ছে।
একাধিক সূত্র জানায়, এসব অভিযোগ নিয়ে ঊর্ধ্বতন দপ্তরে লিখিত ও মৌখিকভাবে জানানো হলেও দৃশ্যমান কোনো তদন্ত বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে। অনেকেই প্রশ্ন তুলছেন—“এই দুই কর্মকর্তার ক্ষমতার উৎস কোথায়? কেন এত অভিযোগের পরও তারা অদৃশ্য শক্তির ছায়ায় নিরাপদ?”নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন,
“আমরা বারবার অভিযোগ দিয়েছি, কিন্তু কোনো ফল পাইনি। মনে হচ্ছে অভিযোগ করলেই উল্টো হয়রানির শিকার হতে হয়।”এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড সাতক্ষীরা-২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রহমান তাযকিয়া ও সহকারী আলমগীরের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তারা মন্তব্য দিতে রাজি হননি।সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল মনে করছেন, অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করা জরুরি। তা না হলে সরকারি অর্থের অপচয় এবং জনস্বার্থবিরোধী কর্মকাণ্ড আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।এলাকাবাসীর জোর দাবি—পানি উন্নয়ন বোর্ডের কথিত দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত করে দোষীদের আইনের আওতায় আনা হোক এবং সৎ কর্মকর্তাদের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করা হোক