নিজস্ব প্রতিবেদক, সাতক্ষীরা:
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডে ‘প্রত্যয়নপত্র বাণিজ্য’ নিয়ে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ। নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র প্রদান করে একজন বিতর্কিত ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি চিহ্নিত চাঁদাবাজ ও একাধিক মামলার আসামি সফিউর রহমান ওরফে ‘ফটকা সফি’-এর পক্ষে একটি প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন আশরাফুল আলম। ওই প্রত্যয়নপত্রে সফিউর রহমানকে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে উল্লেখ করা হয়। পরবর্তীতে ওই প্রত্যয়নপত্র একটি চলমান মামলায় আদালতে দাখিল করা হয়েছে।তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সফিউর রহমান পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর কোনো তালিকাভুক্ত ঠিকাদার নন। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ড-২ এর দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাসকিয়া লিখিতভাবে জানিয়েছেন, তাদের দপ্তরের তালিকায় ওই নামে কোনো ঠিকাদার নেই এবং এ ধরনের কোনো প্রত্যয়নপত্রও তাদের পক্ষ থেকে ইস্যু করা হয়নি।একাধিক সূত্রের দাবি, মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে এই প্রত্যয়নপত্র প্রদান করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এর মাধ্যমে বিচারিক প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করার অপচেষ্টা চালানো হয়েছে।এদিকে, আশরাফুল আলমের যোগদানের পর থেকেই পানি উন্নয়ন বোর্ডের বিভিন্ন কার্যক্রমে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি এবং প্রভাবশালী মহলের সঙ্গে যোগসাজশের অভিযোগ ক্রমশ বাড়ছে। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠায় দপ্তরের কার্যক্রম প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।বিশেষ করে ‘ফটকা সফি’ নামে পরিচিত ব্যক্তির সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা এবং তাকে বিভিন্নভাবে সহযোগিতা করার অভিযোগ স্থানীয় মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।অভিযোগের বিষয়ে জানতে নির্বাহী প্রকৌশলী আশরাফুল আলমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে, একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তা যদি আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ভুয়া প্রত্যয়নপত্র প্রদান করেন, তাহলে তা শুধু প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গ নয়, বরং বিচার ব্যবস্থায় সরাসরি হস্তক্ষেপের শামিল।এদিকে, একাধিকবার এ সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশিত হলেও এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান তদন্ত বা প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এতে জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।সচেতন মহল অবিলম্বে একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং দোষীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।