1. admin@dailyksonarbangladesh.com : admin :
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৩ পূর্বাহ্ন
সংবাদ শিরোনাম :
সাতক্ষীরা উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ, কালীগঞ্জে বিএনপি’র পেশাজীবী দলের কমিটি গঠন সম্পন্ন শফিক- সভাপতি, লিটন- সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত নড়াইলের লোহাগড়ায় তথ্য চাওয়ায় সাংবাদিকদের হেনস্তার অভিযোগ প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে নড়াইলে মাদকদ্রব্যসহ স্ত্রী আটক, স্বামী পলাতক শ্যামনগরে মৎস্য অধিদপ্তরের উদ্যোগে জলাশয়ে পোনা মাছ অবমুক্তি বহু পুরুষের সাথে ‎শারিরীক মেলামেশায় জরায়ু অপরেশন নায়েব শর্মিষ্ঠার ‎* জরায়ু কাটাহলেও থেমে নেই অবাধ মেলামেশা । ‎* ডজন খানেক প্রেমের সত্যতা মিলেছে। * স্বামী অক্ষম হওয়ায় তরুণ যুবক তার্গেট নিজের নিজের অপকর্ম ধামাচাপা দিতে সাংবাদিকের নামে মামলা? মীর শাহীনকে ঘিরে পুরোনো মামলার নথি, ব্যবসা ও পরিচয় নিয়ে নানা প্রশ্ন তালা কমিউনিটি ক্লিনিকের চিকিৎসক হাফিজুর রহমান সরকারি ওষুধ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন, ব্যক্তিগত ফার্মেসি পরিচালনার অভিযোগ রাশিয়া ও ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরও কঠোর করার অংশ হিসেবে ভারতসহ ১০টি দেশের ওপর সর্বোচ্চ শতভাগ পর্যন্ত আমদানি শুল্ক ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন ও সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনানসহ সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড

সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল সালাহুদ্দিনের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা দুর্নীতির অভিযোগ

  • আপডেট সময় : রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫
  • ৪০৯ বার পঠিত

আল-আমিন সরদার সাতক্ষীরা’সাতক্ষীরা নদী জোয়ার সৃষ্টি ও খালে প্রবাহ বৃদ্ধি, অকেজো স্লুইস গেটগুলো কার্যকর করাসহ অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রতিরোধে সরকার পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে স্লুইস গেট সংস্কারের কাজ বাস্তবায়ন শুরু করলে বাস্তবে কাছের কোনো তথ্য মিল থাকছে না। বেশির ভাগ স্লুইস গেট সংস্কারের ঠিকাদারি কাজ সাবেক ফ্যাসিবাদী সরকারের নেতারাই গত ১৭ বছরে নিয়েছেন। বর্তমানে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় ঠিক তখনোই এসব কাজ পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ ভাগিয়ে নিচ্ছেন। এদিকে পতিত হাসিনা সরকারের নেতাকর্মী এবং কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং-কে অর্থের বিনিময়ে স্লুইস গেট সংস্কারে কাজ দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড–এর নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দিন। এ ঘটনায় সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সালাউদ্দিনের বিরুদ্ধে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব এবং মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করাও হয়েছিলেন কিন্তু সেটার সঠিক তদন্ত হইনি মোটামুটি অর্থ দিয়ে সেখান থেকে ওরাই পেয়েছেন এই নির্বাহী প্রকৌশল সালাহউদ্দিন। দুই বছর সাতক্ষীরা সদর উপরে বিনেরপোতায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের পাঁচ কোটি টাকার স্লুইস গেট নির্মাণে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিলেন এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। পাঁচ কোটি টাকার কাজ পুরোটাই সরকারের পানিতে যাবে বলে অনেকেই অভিযোগ করেন। বদ্ধ খালের উপরে অপরিকল্পিতভাবে এই স্লুইস গেটটি নির্মাণ করা হচ্ছে।এ বিষয়ে পানি উন্নয় বোর্ডের মহাপরিচালক কাছে জানতে চাইলেই তিনি বলেন, বিষয় আমরা আগেও একটি অভিযোগ পেয়েছি আপনারা বলছে আবারও বিষয়টা দেখব তদন্ত করে। এ ঘটনায় দুই বছর আগে দুই কর্মকর্তাকে বরখস্ত করা হয়েছে। এবারো এ ধরনের ঘটনা হলে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং-এর বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করা হবে।দুদকের তালিকাভুক্ত ও পতিত হাসিনা সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং-কে স্লুইস গেটের কাজ দিয়ে অবৈধভাবে লক্ষ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করেছেন সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশল সালাহউদ্দিন। এ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পতিত সরকারের আমলে ২০২৪ সালের মে মাসে সাতক্ষীরা ডিভিশন-২-এর পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীনে স্লুইস গেটের কাজ করাকালীন দুদকের অভিযানে অনিয়ম হাতেনাতে ধরা পড়ে। মামলা ও কালো তালিকাভুক্ত করা হয়। এসব ঘটনা ধামাচাপা দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে ওই প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আবারো ডিভিশন-১-এর অধীনস্থ তিনটি স্লুইস গেটের কাজ চূড়ান্তভাবে দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে বিষয়টি জানাজানি হওয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের শীর্ষ মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছিলেন সেটাও মোটামুটি টাকা দিয়ে ম্যানেজ করেছেন। কীভাবে পতিত সরকারের ঘনিষ্ঠ ব্যক্তির ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান (দুদকে কালো তালিকাভুক্ত) কাজ পাই নানান প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অতীতে এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের মালিক পতিত সরকারের সাবেক এক প্রতিমন্ত্রীর আশীর্বাদ নিয়ে ঘুষ প্যাকেজের মাধ্যমে শত কোটি টাকার কাজের সুবিধা নিয়েছেন। এর নেপথ্যে ছিলেন সদ্য বদলি হওয়া সাবেক তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ও নির্বাহী প্রকৌশল । তারা পতিত হাসিনা সরকারের পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পানি ভবনে সুপরিচিত হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও লাভ হতো না। স্লুইস গেট নির্মাণে চুরির ঘটনা ঘটলেও পার পেয়ে গেছে প্রতিষ্ঠানটি। বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী সালাহউদ্দিন একই পথ অনুসরণ করে দুদকের কালো তালিকাভুক্ত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং-কে লক্ষ লক্ষ টাকা বিনিময়ে কাজ দিয়েছেন নির্বাহী প্রকৌশল সালাহউদ্দিন। বিতর্কিত এই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্লুইস গেট নির্মাণে স্থায়িত্ব ঠিক রাখতে মাটির ২০ ফিট গভীর থেকে শিট পাইলিং করার কথা থাকলেও সেটি না করে মাত্র ১০ ফিট করা হয়েছে। অভিযোগের সূত্র ধরে দুদকের অ্যানফোর্সমেন্ট টিম আঁটসাঁট বেঁধে মাঠে নামে। সেখানে মাটি খুঁড়তেই বেরিয়ে আসে পুকুর চুরির সব প্রমাণ। এরপর ঘটনাস্থল থেকে ফিরে দুদক এ বিষয়ে বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রস্তুত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালককে চিঠি দেয়া হয়েছে। এছাড়া দুদক তার আইনবলে পৃথক মামলাও করে। চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছিল চলতি বছর গত মে মাসে পতিত হাসিনা সরকারের আমলে। এ ঘটনায় নিম্নপদের দুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও প্রকল্প পরিচালক (পিডি) ও নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। এরপরও দুই কর্মকর্তাই বিল পরিশোধের সব ব্যবস্থা করেন। কুলুতিয়া খালে রেগুলেটর নির্মাণের যে প্যাকেজে অভিযান চালায় সেখানে ব্যয় হয় প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা। তখন কাজটি পায় খুলনার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আমিন অ্যান্ড কোং। এ কাজে বিল পরিশোধের সুপারিশের জন্য দুদকের প্রতিবেদনে দায়ী করা হয় সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুর রহমানকে। এ ছাড়া সদ্য বদলি হওয়া খুলনার তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পিডি মো. সবিবুর রহমানও দায় এড়াতে পারেন না। কারণ তিনি চূড়ান্তভাবে ঠিকাদারকে বিল পরিশোধ করেছিলেন।অভিযোগে বলা হয়, পানিবদ্ধতার কবলে পড়ে চরম দুর্ভোগে পড়েছে রে ১১ লাখ মানুষ। জলবায়ু পরিবর্তন, নদীর নাব্যতা হ্রাস, পলিপড়ে নদীর তলদেশ ভরাট, অকেজো স্লুইস গেট, খননের নামে চরম দুর্নীতি ও ভারতীয় নদী আগ্রাসনকে এর জন্য দায়ী করা হচ্ছে। ফলে ফসলের মাঠ, মৎস্য ঘেরসহ গোটা রে নিম্নাঞ্চল যেন পানিতে ভাসছে। পানির প্রবাহ হারিয়ে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে রে ৪২৯টি খাল। এসব খালের উপর নির্মিত ২১৬টি স্লুুইস গেটের বেশির ভাগ অকেজো। ফলে এসব নদী থেকে প্রবাহিত চার শতাধিক খাল তার অস্তিত্ব হারিয়েছে। এসব খালে বাঁধ দিয়ে লোনা পানি তুলে মাছচাষ করা হচ্ছে। মাত্র কয়েকটি খাল পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ে পরিষদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।১৯৬০ ও ১৯৭০-এর দর্শকে এসব খালের উপর নির্মিত ২১৬টি স্লুইস গেটের মেয়াদ শেষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, রে ১৪টি নদী কোনোরকমে টিকে আছে। এসব নদীর শাখা প্রশাখায় প্রবাহিত রয়েছে ৪২৯টি খাল। পরিবেশ বিপর্যয়ের প্রভাবে যার বেশির খাল এখন অস্তিত্ব হারিয়েছে। অনেক জায়গায় নদী ও খালের বুকে জেগে উঠা চরে মানুষ বসতি শুরু করেছে। সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগে ২১৬টি স্লুইস গেট রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর অধীনে ১২৩টি স্লুইস গেট রয়েছে। যার ৮০টি কার্যক্ষম আছে বাকি ৩৪টি সম্পূর্ণ অকেজো। এছাড়া সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর অধীনে ৯টি স্লুইস গেটের মধ্যে ২৮ টি সূত্র জানায়, সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের দুটি বিভাগে ২১৬টি স্লুইস গেট রয়েছে। এর মধ্যে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর অধীনে ১২৩টি স্লুইস গেট রয়েছে। যার ৮০টি কার্যক্ষম আছে বাকি ৩৪টি সম্পূর্ণ অকেজো। এছাড়া সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড-১-এর অধীনে ৯টি স্লুইস গেটের মধ্যে ২৮টি সম্পূর্ণ অকেজো। ৫০টির তলদেশ পলি জমে উঁচু হয়ে যাওয়ায় এগুলো পানি নিষ্কাশন ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেছে। পাউবো-১-এর তথ্যে বলা হয়, ১২৩টি স্লুুইস গেটেরে মধ্যে ১৯৬১ থেকে ১৯৬৫ সালে নির্মিত ৩৫টি, ১৯৬৮ থেকে ১৯৭১ সালে নির্মিত পাঁচটি, ১৯৬৩ থেকে ১৯৬৭ সালে নির্মিত ৩০টি, ১৯৬৩ থেকে ১৯৭৬ সালে নির্মিত ৪৮টি এবং ১৯৮৯ থেকে ৯৩ সালে নির্মিত পাঁচটি। যার বেশির ভাগ স্লুুইস গেটের মেয়াদই শেষ। জলবায়ু প্রকল্পের আওতায় ২০১৩ সালের ২৪ কোটি ৯৫ লাখ টাকা ব্যয়ে সাতটি প্যাকেজে নদী খননের কাজ করা হয়। ২০১১ সালে কপোতাক্ষ নদ খননের জন্য চার বছর মেয়াদি প্রায় ২৬২ কোটি টাকার একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। সেই প্রকল্পের বেশির ভাগ টাকায় লুটপাট হয়েছে। কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্কেবেটর মেশিন দিয়ে দিয়ে চেঁচে-ছিলে দায়সারা গোছের খনন করা হয়েছে। ২৫ কোটি টাকার খনন করা হয়েছে সাতক্ষীরার এক সময়ের প্রমত্তা বেতনা নদী। কিন্তু খননের আগের অবস্থার চেয়ে বর্তমান অবস্থা আরো খারাপ। খনন কাজের আগে নদীটি কমপক্ষে ১৫০ থেকে ২০০ মিটার চওড়া ছিল। কিন্তু খননের পর নদীটি পরিণত হয়েছে নালায়। স্থানীয়দের অভিযোগে বলা হয়, যে ভাবে নদীটি খনন করায় দুর্ভোগ আরো বেড়েছে। বেতনা নদীর মাঝ বরাবর খনন করার কথা ছিল ১০ থেকে ১৮ ফুট। কিন্তু বাস্তবে তার কিছুই হয়নি। উপকূলীয় অঞ্চলের উন্নয়নে সাতক্ষীরার বেতনা নদী খনন ও পাড় বাঁধাই করার জন্য ২৫ কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছিল সরকার।

Facebook Comments Box
এ জাতীয় আরও খবর

ফেসবুকে আমরা

© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২২ দৈনিক সোনার বাংলাদেশ
Theme Customized By Shakil IT Park