সাতক্ষীরা প্রতিনিধিঃ সাতক্ষীরা জেলা সহ ৬৪ জেলার এস.পি ডি.সি আমার পকেটে সচিব আর মন্ত্রীদের কথা তো বললাম না এমনই করে বলে ঘুরে বেড়ান মেহেদি হাসান বাবু। এলাকাকাসী জানান প্রশাসনের উচ্চ কর্মকর্তার নাম ভাঙিয়ে মানুষকে বোকা বানিয়ে প্রতরনার মাধ্যমে গড়ে তুলেছে সম্পদের পাহাড়। সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা সহ খেরশা এলাকায় রয়েছে তার কয়েক কোটির টাকা জমি সহ বিলাস বহুল বাড়ি।মেহেদি হাসান বাবু তালা উপজেলার খেরশা ইউনিয়নের হরিহন নগর এলাকার কালাম শেখের ছেলে।
নাম না বলা পাটকেলঘাটা এলাকার অনেকে জানান, মেহেদী হাসান বাবু এক সময় স্বাস্থ্যসহকারী পদে চাকরি করত। ওই সময় দূর্নীতির কারনে তার চাকরি চলে যায় পরে সে হানিফ পরিবহনের ব্যাটারির পানির জন্য সেলস ম্যান হিসাবে চাকরি নেন। ২০১৩/১৪সালে হানিফ পরিবহনের মালিক কোপিল উদ্দীন সরকারী বিরোধী কর্মকান্ডের দায়ে জেল খাটেন।এরপর থেকে মেহেদি বাবু হানিফ পরিবহনের ম্যানেজার পদে দ্বায়িক্ত পালন করতে থাকেন। সম্প্রতি সময়ে হানিফ পরিবহনের কোপিল উদ্দীন ২১আগষ্ট গ্রেনট হামলা সহ শতাধিক মালার আসামী হিসাবে পলাতক রয়েছেন। তার যাবতীয় মামলার দেখাশুনা করে মেহেদি বাবু।বর্তমানে তার মুল কাজ প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক বজায় রেখে রাস্থায় অবৈধ গাড়ি চালান।
তারা আরো জানান, বছর দুয়েক আগে মেহেদি বাবু হঠাৎ আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে উঠেছে। তার এই অপকর্ম ঢাকতে ইতিমধ্যে বাগিয়ে নিয়েছে তা উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রান ও সমাজ কল্যান বিষায়ক সম্পাদকের মত একটি গুরত্বপূর্ন পদ। বর্তমানে তিনি সরকারী উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার নাম পরিচয় দিয়ে এলাকায় এক প্রতারনার ফাঁদ তৈরি করেছেন।
এমন অবস্তায় দূনীতি দমন কমিশনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
পাটকেলঘাটা এলাকার মাহামুদুল হক নামে এক ব্যাবসায়ী জানান, তার প্রতিবেশী হওয়ার সুবাদে তিনি মেহেদি বাবু কে কাছ থেকে চেনেন।মাত্র দুই তিন বছরের মধ্যে কোটি টাকা মুল্যের ৫তলা বাড়ি ও ৩৫লক্ষ টাকা মূল্যের টয়োটা এলিয়ন গাড়ি কিনেছেন। প্রায় তার বাসায় প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ লোকজন করে।এদিকে পান থেকে চুন খসলেনই প্রতিবেশিদের উপর চালানো হয় প্রশাসন দিয়ে হামলা।তার দ্বারা একাধিক বার হয়রানির স্বীকার হয়েছেন বলে জানান তিনি।
খেরশা এলাকার সেলিম রেজা নামে এক আওয়ামীলীগ নেতা জানান, তিনি দলের দুসময়ের কান্ডারি হয়ে দলকে ধরে রেখেছেন। মেহেদি বাবুকে কোনদিন তিনি রাজনীতির মাঠে দেখেনি নি। অথচ সে এখন বড় আওয়ামীলীগার হয়ে বি. এন.পির লোকজন ভাঙিয়ে কোটিপোতি বনে গেছে। এক সময় যার কিছুই ছিলনা সে এখন বিভিন্ন এলাকায় কোটি কোটি টাকার জমি কিনে বেড়াচ্ছেন। তিনি আরো জানান, মেহেদি বাবু এখন এলাকায় এসে বলে বেড়ায় সচিব সহ শতাধিক এসপি তার পকেটে রয়েছে তার কেউ কিছুই করতে পারবেনা। তার স্ত্রী শাহবাজ নিগার (পায়েল) পরিবার পরিকল্পনায় তৃতীয় শ্রেনীর কর্মচারী হলেও কোনদিন সে অফিসে যায়না। কোথায় পোষ্টিং সেটা কেউ বলতে পারেনা। অদৃশ্য কারনে উর্ধতন কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে কেউ ব্যাবস্থা নিতে পারনে।এভাবে সরকারী টাকা আত্মসাৎ সহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাদের নাম ভাঙিয়ে মানুষকে তারা বোকা বানাচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
স্থানীয় এক সাংবাদিক জানান, মেহেদি বাবু তার প্রতিবেশি হঠাৎ সে হাতে আলাদিনের চেরাগ পেয়েছে। সে তার বাড়ির সামনে কোটি টাকা দিয়ে জমি কিনে বহুতলা বিশিষ্ট বাড়ি নির্মান করেছে।কয়েক মাস আগে সে তালা উপজেলারকলাগাছি এলাকার ঢালিচক বিলে ১৩বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। সম্প্রতি সময়ে মেহেদি বাবু শাকদাহ এলাকায় ৫৫লক্ষ টাকা জমি কিনেছেন সেখানে দোকান নির্মান করছেন। তার এই বিপুল অর্থের জন্য বৈধ কোন আয়ের উৎস আছে বলে তার জানা নেই।
এব্যাপারে মেহেদী বাবু কাছে জানতে চাইলে তার ব্যবহৃত মোবাইল নাম্বার ফোন দিলে তার ফোনটি ব্যস্ত থাকায় বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি