নিজস্ব প্রতিবেদক :সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়ার বিরুদ্ধে বেড়িবাঁধ সংস্কার ও নদী খননের নামে কোনো কার্যকর কাজ ছাড়াই শতকোটি টাকা আত্মসাতের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। বিস্ময়কর হলেও সত্য—এ বিষয়ে একাধিক অভিযোগ, তথ্য-উপাত্ত ও তিন পর্বের অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও বাস্তবে কোনো কাজ হয়নি, নেওয়া হয়নি কার্যকর কোনো ব্যবস্থা।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে, দীর্ঘদিন ধরে একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে তুলে টেন্ডার প্রক্রিয়া উপেক্ষা করে বা নামমাত্র কাগুজে টেন্ডারের মাধ্যমে উপকূলীয় বেড়িবাঁধ রক্ষা, বেতনা নদী ও প্রাণসায়র খালসহ বিভিন্ন নদ-নদীর খনন প্রকল্পে কোটি কোটি টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প আছে, বরাদ্দ আছে—কিন্তু মাঠে নেই কাজ।
অভিযোগ রয়েছে, আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী ও এমপিদের ছত্রছায়ায় নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া এই অনিয়ম চালিয়ে যাচ্ছেন। নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের লাইসেন্স ব্যবহার করে তার কার্যালয়ের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ সহকারী কর্মকর্তা নিজেরাই প্রকল্প নিয়ন্ত্রণ করেন। কোন ঠিকাদার কত টাকায় কোন কাজ পাবে—সবকিছু আগেই নির্ধারিত, মাঠপর্যায়ে কাজ না করেও বিল উত্তোলন করা হয়।
তিন পর্বের অনুসন্ধানে দেখা যায়—
কোথাও প্রকল্পের কাজ শুরুই হয়নি
কোথাও নামমাত্র মাটি ফেলা বা দায়সারা সংস্কার দেখিয়ে বিল তোলা হয়েছে
কোথাও আবার কাজ দেখানো হলেও বাস্তবে বেড়িবাঁধ এখনো ঝুঁকিপূর্ণ
এসব অনিয়মের বিরুদ্ধে ঠিকাদার ও স্থানীয় ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং অভিযোগকারীদের নানাভাবে চাপ ও হুমকি দেওয়ার কথাও উঠে এসেছে।
সূত্র জানায়, দুর্নীতির টাকায় নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের নামে-বেনামে বিপুল অবৈধ সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। ঢাকা ও খুলনা শহরে একাধিক ফ্ল্যাট, বাড়ি ও বিলাসবহুল গাড়ির মালিক তিনি। অভিযোগ রয়েছে, ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থে বেপরোয়া জীবনযাপন, এমনকি নৃত্যশিল্পী নিয়ে ফুর্তির ঘটনাও আলোচিত।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো—
তিন পর্বে একের পর এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশ, জনমনে তীব্র ক্ষোভ ও দুদকে তদন্তের দাবি উঠলেও অজ্ঞাত কারণে আজও আব্দুর রহমান তাযকিয়ার বিরুদ্ধে কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের ‘ম্যানেজ’ করেই বহাল তবিয়তে রয়েছেন তিনি।সাধারণ জনগণের জোরালো দাবি, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্ত করলে এই কর্মকর্তার অবৈধ অর্থ ও সম্পদের প্রকৃত চিত্র বেরিয়ে আসবে।এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়ার মোবাইলে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি কল রিসিভ না করায় তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।