সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (ইএন্ডসি) এম. এস. রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে অনিয়ম, ঘুষ বাণিজ্য ও গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ
আপডেট সময় :
সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২৬
১২৮
বার পঠিত
নিজস্ব প্রতিবেদক সাতক্ষীরা: সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম (ইএন্ডসি) এম. এস. রাসেল শরীফের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, নিয়মিত অফিসে অনুপস্থিত থাকা, ঘুষ বাণিজ্য, গ্রাহক হয়রানি, অবৈধ সংযোগ প্রদান, ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশে সরকারি মালামাল অপব্যবহার এবং মৎস্য শিল্প সংযোগে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে স্থানীয় গ্রাহক, মৎস্য খামারি ও সচেতন মহলে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। অভিযোগকারীদের দাবি, এজিএম (ইএন্ডসি) এম. এস. রাসেল শরীফ প্রায়ই কোনো প্রকার পূর্ব নোটিশ ছাড়াই ছুটিতে থাকেন এবং নিয়মিত অফিসে উপস্থিত থাকেন না। এতে জরুরি সেবা নিতে আসা গ্রাহকদের দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় এবং অনেকেই প্রয়োজনীয় সেবা না পেয়ে হয়রানির শিকার হন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মৎস্য শিল্প সংযোগসহ বিভিন্ন ধরনের নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে ঘুষ ছাড়া কার্যক্রম এগোয় না। ইলেকট্রিশিয়ান পরিচয়ধারী কিছু দালালের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ প্রদান করলে মাত্র ৫ থেকে ৭ দিনের মধ্যেই ৫ কেভিএ বা ১০ কেভিএ ট্রান্সফরমারসহ শিল্প সংযোগ দেওয়া হয়। অন্যদিকে, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন করে জামানতের অর্থ জমা দেওয়ার পরও অনেক গ্রাহক বছরের পর বছর কাঙ্ক্ষিত সংযোগ থেকে বঞ্চিত থাকছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি)-এর নীতিমালা অনুযায়ী মৎস্য শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে নির্ধারিত সমীক্ষা ফি ও জামানত ফি মিলিয়ে সীমিত ব্যয়ের মধ্যে সংযোগ দেওয়ার কথা। প্রয়োজনীয় ট্রান্সফরমার ও অন্যান্য মালামালও চাহিদা অনুযায়ী আরইবি থেকে সরবরাহ করার বিধান রয়েছে। কিন্তু বাস্তবে এসব সুবিধা অধিকাংশ গ্রাহক পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেছেন মৎস্য খামারিরা। ভুক্তভোগীদের দাবি, অনেক আবেদনকারীকে অফিস থেকে জানানো হয় যে ট্রান্সফরমার মজুত নেই। পরে তাদের স্থানীয় বাজার বা অফিসসংলগ্ন নির্দিষ্ট দোকান থেকে ট্রান্সফরমার ও কাট-আউট কিনে আনতে বলা হয়। একই সঙ্গে আশ্বাস দেওয়া হয়, ভবিষ্যতে বিদ্যুৎ বিলের মাধ্যমে ওই অর্থ সমন্বয় করা হবে। তবে বাস্তবে সেই অর্থ আদৌ সমন্বয় করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গ্রাহকরা। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছেন তারা। আরও অভিযোগ রয়েছে, মৎস্য শিল্প সংযোগের জন্য আরইবি থেকে বরাদ্দ পাওয়া ট্রান্সফরমার ঠিকাদারদের সঙ্গে যোগসাজশের মাধ্যমে বিক্রি করে বিপুল পরিমাণ অর্থ আত্মসাতের একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট কাজ করছে। অভিযোগকারীদের ভাষ্য, সরকারি বরাদ্দের ট্রান্সফরমার প্রকৃত গ্রাহকদের না দিয়ে বিভিন্ন মাধ্যমে বিক্রি করা হচ্ছে। ফলে প্রকৃত আবেদনকারীরা দীর্ঘদিন ধরে সংযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, অবৈধ সংযোগ প্রদান, বিভিন্ন কাজে অনিয়ম এবং নারী-সংক্রান্ত বিতর্কেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এ বিষয়ে অভিযুক্ত এজিএম (ইএন্ডসি) এম. এস. রাসেল শরীফের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বের সঙ্গে প্রকাশ করা হবে।স্থানীয় ভুক্তভোগী গ্রাহক, মৎস্য খামারি ও সচেতন নাগরিকরা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। ,