নিজস্ব প্রতিবেদক:
সাতক্ষীরায় এক ভূমি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন, দালাল সিন্ডিকেট পরিচালনা ও অনিয়মের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। অভিযুক্ত আশরাফুউজ্জামান বর্তমানে আটুলিয়া ইউনিয়ন-এ ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তার পিতা রমজানগর ইউনিয়ন-এর পাথরখোলা গ্রামের একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। ২০০৫ সালে ভূমি অফিসে চাকরি পাওয়ার পর থেকে তার আর্থিক অবস্থার দ্রুত পরিবর্তন ঘটে বলে অভিযোগ রয়েছে।
দৃশ্যমান সম্পদ নিয়ে প্রশ্ন
অভিযোগ অনুযায়ী—
সাতক্ষীরা শহরের মুনজিতপুর এলাকায় প্রায় ৩ কোটি টাকা মূল্যে দুইতলা বাড়ি নির্মাণ।
কাটিয়া এলাকায় প্রায় ২ কোটি টাকা মূল্যে দুটি দোকানসহ একতলা বাড়ি ক্রয়।
সুলতানপুর এলাকায় ৫ শতক জমির আমবাগান ক্রয় (প্রায় ৭০ লাখ টাকা মূল্যে, শ্বশুরের নামে)।
গ্রামে কয়েক একর কৃষিজমি ক্রয় এবং পরিবারের সদস্যদের নামে বিভিন্ন ব্যাংকে উল্লেখযোগ্য অঙ্কের আমানত।
স্থানীয়দের দাবি, ২১ বছরের চাকরি জীবনে সরকারি বেতন-ভাতার তুলনায় তার দৃশ্যমান সম্পদের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেশি, যার বাজারমূল্য আনুমানিক ৭–৮ কোটি টাকা হতে পারে।
ঘুষ ও দালাল সিন্ডিকেটের অভিযোগ
সরজমিনে অনুসন্ধানে কয়েকজন ভুক্তভোগী অভিযোগ করেন, আটুলিয়া ভূমি অফিসে ঘুষ ছাড়া সেবা পাওয়া কঠিন। নামজারি, খাজনা দাখিলা, খাসজমি বন্দোবস্তসহ বিভিন্ন কাজে একটি দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে বলে তারা দাবি করেন।
অভিযোগ রয়েছে, খোলপেটুয়া নদীর চর এলাকায় জমি দখল ও প্লট বণ্টনকে কেন্দ্র করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট কাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বৈধ নিলাম বা লিখিত অনুমোদন ছাড়া লেনদেনের অভিযোগও উঠেছে।
ভুক্তভোগীর বক্তব্য
আটুলিয়ার সাবেক ইউপি সদস্য আবুল বাশার দাবি করেন, দোকান বরাদ্দের নামে তার কাছ থেকে ৩ লাখ টাকা নেওয়া হয়েছে। টাকা ফেরত চাইলে ভয়ভীতি দেখানো হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ
স্থানীয়দের একাংশের দাবি, অতীতে খরসা ইউনিয়ন-এ কর্মরত থাকাকালীন তার বিরুদ্ধে নারী সংক্রান্ত অনৈতিক আচরণের অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
এ বিষয়ে শ্যামনগরের সহকারী ভূমি কমিশনারের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি বলে জানা গেছে।
সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক আফরোজা আক্তার বলেন, বিষয়টি তার নজরে এসেছে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অভিযুক্ত আশরাফুউজ্জামানের বক্তব্য জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তের দাবি
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সচেতন মহল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং জেলা প্রশাসনের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন। তাদের মতে, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত সত্য উদঘাটন হলে সাধারণ মানুষের আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা পাবে।